পর্তুগিজ উপনিবেশ ও ব্রিটিশ ভারতের প্রাচীন ইতিহাস এই শহরের ইট-পাথরে এখনও ইতিহাসের গল্প শোনায়। তার সঙ্গে রয়েছে আরব সাগরের ঢেউ ছোঁয়া সোনালি বালুকাবেলা।

গোয়া সফরের তোড়জোড়ও করতে হয় পকেটের কথা মাথায় রেখে।
শেষ আপডেট: 30 July 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার সৈকত! শুধু বাঙালি কেন, বিশ্বের কাছে এক স্বর্গীয় অনুভূতির শহর। পর্তুগিজ উপনিবেশ ও ব্রিটিশ ভারতের প্রাচীন ইতিহাস এই শহরের ইট-পাথরে এখনও ইতিহাসের গল্প শোনায়। তার সঙ্গে রয়েছে আরব সাগরের ঢেউ ছোঁয়া সোনালি বালুকাবেলা। গিটার-স্যাক্সোফোনের মোহমেদুর সুরের সন্ধ্যাকে আকণ্ঠ পান করে নেয় সুরা-মদিরার পেয়ালা। কিন্তু, সকলেই জানেন, গোয়া ভ্রমণ খুবই খরচসাপেক্ষ। তাই গোয়া সফরের তোড়জোড়ও করতে হয় পকেটের কথা মাথায় রেখে। আর এই বাজেট পর্যটনের জন্য অনেকেই বেছে নেন হোম স্টে। কিন্তু, এবার সেই হোম স্টে-র উপর কষাঘাত পড়তে চলেছে রাজ্য সরকারের।
গোয়া পর্যটনের নজরে পড়েছে অনথিভুক্ত হোম স্টেগুলি। বিশেষত গোয়ার বাসিন্দা নন, এমন লোকজনের কিনে রাখা ফ্ল্যাটগুলিকে তাক করেছে সরকার। কোভিডকালে অনেক সস্তায় দিল্লি ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তিরা গোয়ায় রিয়েলটি দালাল মারফত বেশ কিছু আবাসনের ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই সেগুলিতে তাঁরা হোম স্টে চালু করেছেন। যা সরকারি খাতায় নথিভুক্ত নয়।
ফলে রাজ্যের নিয়মবিধির এক্তিয়ার বহির্ভূত এই ফ্ল্যাট ও বাংলোগুলি পর্যটনদের ভাড়া দেওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছে সরকার। রাজ্য বিধানসভায় সম্প্রতি বিষয়টি প্রথমে উত্থাপন করেন বিজেপির বিধায়ক মিখাইল লোবো। তিনি অবৈধ হোম স্টে প্রসঙ্গে সভায় বলেন, এগুলি প্রতিবেশীদের অসুবিধা সৃষ্টি করছে এবং পর্যটন পরিকাঠামোর ক্ষতি করছে। এর জবাবে পর্যটনমন্ত্রী রোহন খাউন্তে স্থানীয়দের কাছে বিধিভঙ্গকারীদের তত্ত্বতালাশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এ ধরনের ফ্ল্যাট-বাংলোকে বাণিজ্যিক কাজে পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভাড়া খাটানো চলতে দেওয়া হবে না। মালিকরা সুযোগের অপব্যবহার করছেন এবং ভাড়া খাটিয়ে মুনাফা তুলছেন। যার কোনও অংশ রাজ্য সরকার পাচ্ছে না। এর ফলে রাজ্যের পর্যটন রাজস্ব মার খাচ্ছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিজেপি বিধায়ক লোবো অভিযোগ করেন, গোয়ার বহু অ্যাপার্টমেন্টে অবৈধভাবে হোস স্টে চলছে। একই আবাসন চত্বরে দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে কিনে সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে ফাঁকা ফ্ল্যাট ভাড়ায় খাটানো হচ্ছে। এর ফলে উচ্ছৃঙ্খল পর্যটকরা এসে হই-হুল্লোড় করে পরিবেশ নষ্ট করছে এবং অন্য স্থায়ী বাসিন্দাদের অসুবিধা করছে। তিনি আরও বলেন, অবাধে এই হোম স্টেগুলি গোয়ার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে দিচ্ছে।
তিনি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, কোথাও যদি ৫০টি ফ্ল্যাট থাকে তাহলে তার মধ্যে ১০টি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে। কারা আসছে, যাচ্ছে কেউ খোঁজ রাখছে না। পর্যটকরা এসে আবাসনের কমন প্লেসে মদ্যপান করছে, জোরে গানবাজনা বাজিয়ে নাচানাচি করছে, বাধা দেওয়ার কেউ নেই। তাঁর অভিযোগে মান্যতা দিয়ে মন্ত্রী জবাবে বলেন, সরকারি নজরদারি থাকা প্রয়োজন।