ঠিক এই আলোচনার পরই পাঁচজন নির্বিকারভাবে ঢুকে পড়ে পরস হাসপাতালের একটি কেবিনে। চিকিৎসাধীন ছিলেন গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্র। তাকে খুন করে।

সিসিটিভি ফুটেজের অংশ
শেষ আপডেট: 18 July 2025 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনার পরস হাসপাতালে ভয়াবহ গ্যাংওয়ারে গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্রকে গুলি করে খুনের নেপথ্যে কীভাবে ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা, তা ধরা পড়ল এক নতুন সিসিটিভি ফুটেজে। বৃহস্পতিবার সকালে খুনের ঠিক আগে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাঁচ বন্দুকবাজকে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় দেখা গিয়েছে এই ভিডিওয়।
দুই মিনিটের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পাটনার একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দু’জন, তাদের মধ্যে একজন হল ধৃত তৌসিফ বাদশা। কিছুক্ষণ পর সেখানে আরও তিনজন যোগ দেয়। রাস্তায় এক কোণে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা চালায় পাঁচজনের দলটি। পুলিশের অনুমান, ওই সময়েই খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
ঠিক এই আলোচনার পরই পাঁচজন নির্বিকারভাবে ঢুকে পড়ে পরস হাসপাতালের একটি কেবিনে। চিকিৎসাধীন ছিলেন গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্র। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে, কীভাবে বন্দুক বের করে কেবিনের দরজা খুলে একের পর এক গুলি চালায় তারা, তারপর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
আরও একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, পাঁচজনের মধ্যে তিন জন একটি বাইকে ট্রিপল রাইড করে যাচ্ছে। পিছনের একজন গলা উঁচিয়ে বন্দুক দেখিয়ে হাত নাড়ছে, সঙ্গে ভিক্ট্রি সাইন। যেন এই খুন তাদের ‘জয়’ বা দখলের বার্তা।
কে ছিলেন চন্দন মিশ্র?
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত চন্দন মিশ্র বক্সার জেলার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ২৪টি ফৌজদারি মামলা ছিল। যার মধ্যে ১২টি খুনের। কিছু দিন আগে তাঁকে বক্সার জেল থেকে ভাগলপুর জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে শেষ কয়েকদিন ধরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার কারণে পরস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
পাটনার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ কার্তিকেয় শর্মা জানিয়েছেন, চন্দন মিশ্রকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং গুলি করে খুন করেছে। বক্সার পুলিশের সহায়তায় চন্দন শেরু গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
Video of shooters gathering before killing Buxar gangster Chandan Mishra at Paras Hospital in Patna goes viral. #Patna #ChandanMishra #ShootersPhoto #BiharCrime #MatrizeNews pic.twitter.com/Oxwm4ROrU1
— Matrize News Communications Pvt. Ltd (@Matrize_NC) July 18, 2025
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একমাত্র ধৃত হল তৌসিফ বাদশা। পুলিশ জানিয়েছে, তৌসিফের বাড়ি পাটনার ফুলওয়ারি শরিফে। তাঁর বাবা একজন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী এবং মা পেশায় শিক্ষিকা। বাকি চার অভিযুক্তকেও শনাক্ত করা গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাকড়াও করতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
শহরের ব্যস্ততম হাসপাতালে দিনের আলোয় এমন খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এত নিরাপত্তা ভেদ করে গ্যাংওয়ার কী করে চলল? কোথায় প্রশাসন? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
এদিকে হাসপাতালের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সূত্রের খবর, পুলিশ হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।