
শেষ আপডেট: 7 June 2024 00:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার আর সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় চোখে পড়বে না মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং ছত্রপতি শিবাজীদের ঐতিহাসিক মূর্তি। লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরই মুূর্তিগুলি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে একযোগে সোশ্যাল মাধ্যমে প্রতিবাদে ঝড় তুলেছে বিরোধীরা।
বিরোধীদের অভিযোগ, মোদী-শাহর ইন্ধনে সংসদ ভবনের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। আর কদিন পরেই যখন নতুন সরকার গঠন হবে তখন কেন এত তাড়াহুড়ো? প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।
পুরনো সংসদ ভবনের দিক করে এতদিন ছিল মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং ছত্রপতি শিবাজী-সহ ১৪জন মহান ব্যক্তিত্বর মূর্তি। নতুন সংসদ ভবন তৈরির সময় প্রস্তাব ছিল নতুন ভবনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে মূর্তিগুলির মুখ। কিন্তু তা না করে রাতারাতি কেন সংসদের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মূর্তিগুলি সরিয়ে ফেলা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রসঙ্গত, পুরনো সংসদ ভবনের সামনে থাকা মহাত্মা গান্ধীর ১৬ ফুটের লম্বা ব্রোঞ্জের মূর্তিটির সামনেই এতদিন প্রতিবাদ কর্মূসূচি পালন করতেন বিরোধী সাংসদরা। রাতারাতি সেটিকে সংসদ ভবনের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ টুইটে লিখেছেন, 'নৃশংস ঘটনা।"
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পবন খেরার অভিযোগ, মহারাষ্ট্র বিজেপিকে ভোট না দেওয়ায় শিবাজি ও আম্বেদকরের মূর্তি সরানো হয়েছে। গুজরাতে ক্লিন সুইপ না হওয়ায় তারা মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি সরিয়ে ফেলল।"
টুইটে দেশবাসীর উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, একটু ভেবে দেখুন, যদি বিজেপি ৪০০টি আসন পেত, তাহলে তাঁরা সংবিধানকেও কি রেহাই দিত?"
মোদী সরকারের এই কাজকে 'সস্তা রাজনীতির' সঙ্গে তুলনা করেছেন সদ্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে পরাজিত করা কংগ্রেস নেতা কিশোরী লাল শর্মা।
মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে "স্বেচ্ছাচারী এবং একতরফা" বলে অভিহিত করেছেন প্রবীণ সিপিআই নেতা ডি রাজা।
যদিও লোকসভা সচিবালয়ের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে থেকে কোনও মহান ব্যক্তির মূর্তি সরানো হয়নি। বরং সেগুলো সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনকভাবে স্থাপন করা হচ্ছে।"
কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সংসদ ভবনের চারিদিকে মূর্তিগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় দর্শনার্থীরা সুবিধামত ওই মূর্তিগুলো দেখতে পেতেন না। সেকারণেই মুর্তিগুলিকে এক জায়গায় করে সেখানকার নাম দেওয়া হয়েছে প্রেরণা স্থল।
সংসদ ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বেও বদল আনা হয়েছে। এখন থেকে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা সামললাবে সিআইএসএফ। এই সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে কংগ্রেসের মানিকম ঠাকুর এদিন চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে সিআইএসএফ জওয়ানের হাতে নবনির্বাচিত সাংসদ তথা বলি কুইন কঙ্গনা রানাওয়াতের হেনস্থা হওয়ার প্রসঙ্গটির উল্লেখ করে কটাক্ষের সুরে বলেছেন, আগামী দিনে এই একই ঘটনা সংসদেও ঘটতে পারে!