Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

ফুটপাথের ফুচকার দোকান থেকে আইআইটি, ক্লাস ১১-এ ফেল করেও আজ বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হর্ষ

হর্ষর বাবা ফুচকা বিক্রেতা। ছয় সদস্যের পরিবার কোনওদিনও স্বপ্ন দেখেনি IIT-র মতো জায়গায় কেউ যাবেন।

ফুটপাথের ফুচকার দোকান থেকে আইআইটি, ক্লাস ১১-এ ফেল করেও আজ বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হর্ষ

হর্ষ ও তাঁর পরিবার (সংগৃহীত)

শেষ আপডেট: 4 July 2025 16:27

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কল্যাণের এক কোণে, ভাড়াবাড়ির দু'টি ছোট্ট ঘর, ফুটপাথের ধারে ফুচকার দোকান থেকে সামান্য আয় আর তা দিয়ে কোনওমতে চলা সংসার, এই ছিল হর্ষ গুপ্তর জগৎ। কিন্তু এই ছাপোসা জীবন ছেড়ে তিনি পৌঁছে গেলেন ভারতের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইআইটি রুরকিতে। তাঁর অদম্য জেদ আর অধ্যবসায় আজ অনেকের কাছে দৃষ্টান্ত।

হর্ষর বাবা একজন ফুচকা বিক্রেতা। ছয় সদস্যের পরিবার কোনওদিনও স্বপ্ন দেখেনি IIT-র মতো জায়গায় কেউ যাবেন। কিন্তু হর্ষ স্বপ্ন দেখেছিলেন একদম নিজের মতো করে। দশম শ্রেণিতে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে বুঝেছিলেন, অঙ্কে আগ্রহ তাঁর বিরাট। তখনই প্রথম জানতে পারেন JEE (জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজাম)-এর কথা। ঠিক করেন, ইঞ্জিনিয়রিং পড়বেন।

তারপর শুরু হয় কোটার যাত্রা। ‘মোশন এডুকেশন’-এর আবাসিক কোচিং সেন্টারে প্রায় আড়াই বছর ছিলেন তিনি। তবে এই পথ মসৃণ ছিল না। পড়াশোনার মাঝেই বড় ধাক্কা আসে। একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন হর্ষ। ‘রেকটাল প্রোলাপ্স’ নামে এক রোগে ভুগতে শুরু করেন। ক্লাস ১১-র পরীক্ষার বেশ কিছু পেপার দিতে পারেননি, ফলে ফেল করেন। কিন্তু তাতে দমে যাননি।

পরের বছর ১১ এবং ১২ পাস করেন, প্রথমবার জেইই মেইন (JEE-Main) দিলেও অ্যাডভান্সড (JEE-Advanced)-এ সুযোগ পাননি। তখন অনেকে যেখানে থেমে যেতেন, হর্ষ সেখানে আরও এক বছর সময় নেন প্রস্তুতির জন্য। অবশেষে এই বছর জেইই অ্যাডভান্সডে উত্তীর্ণ হন। পান ১৬,১৫৫ র‍্যাঙ্ক (সাধারণ শ্রেণি) ও ৪,০৮৯ (ওবিসি শ্রেণি)।

ভর্তি হন আইআইটি রুরকিতে জিও-টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিং বিভাগে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে জিওফিজিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিং-এ সিট পাওয়ার আশায় রয়েছেন, কারণ ওই বিষয়ের প্রতি তাঁর ঝোঁক আরও বেশি।

এত কিছুর পরও হর্ষর মুখে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই। বলেন, 'কোটায় অনেকেই আসে, কিন্তু অনেক সময় সেটা নিজের স্বপ্ন নয়, পরিবারের চাপ। আমার উপর কেউ কোনও চাপ দেয়নি। একটাই লক্ষ্য ছিল, IIT-তে পড়া।'

ছোট দুই ভাইও পড়াশোনায় ভাল। কিন্তু দাদাকে দেখার পর তারাও অনুপ্রেরণা পেয়েছে। এক জন ক্লাস ১২-তে, অন্য জন সদ্য মাধ্যমিক করেছে। তারা স্বপ্ন বুনছে দাদার মতো।

ছেলে আইআইটি-তে গেছেন তা বলে কি পেশা বদলে ফেলবেন? না, ফুচকার দোকানই তাঁদের সংসারের ভিত্তি। সেটা চালিয়ে যাবেন। আর হর্ষ চাকরি পেয়ে ধরবেন এই ছোট্ট সংসারের হাল। 


```