
শেষ আপডেট: 14 November 2023 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ানমারে সেনা বাহিনীর সঙ্গে সে দেশের গণতন্ত্র প্রত্যাশী মানুষের সংগঠনের লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। একাধিক সূত্রে খবর, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পর এবার মায়ানমারের অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর মানুষকেও দেশছাড়া করতে শুরু করেছে সেনাবাহিনী। আর সেই লড়াইয়ে বহু জায়গায় সেনা পিছু হঠতেও বাধ্য হয়েছে।
এর জের এসে পড়েছে পড়শি ভারতের রাজ্য মিজোরামে। গত দু’দিনে উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে প্রায় আড়াই হাজার মায়ানমারে নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে। সংখ্যাটা বিপুল না হলেও সীমান্তে অপেক্ষমান বহু মানুষ। প্রশাসনিক কর্তারা মনে করছেন, শরণার্থী ঢেউ আছড়ে পড়ার অপেক্ষা মাত্র। রোহিঙ্গা শরণার্থীর স্রোতে বাংলাদেশের কক্সেসবাজার এলাকার যে দশা হয়েছে,একই পরিস্থিতির মুখে মিজোরাম।
উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে সদ্যই বিধানসভা ভোট হয়েছে। ফল প্রকাশিত হয়নি। রাজ্য চালাচ্ছে কার্যনির্বাহী সরকার। তাদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মিজোরাম সরকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হল, শরণার্থীদের মধ্যে সাদা পোশাকে থাকা মায়ানমারের সেনাও আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভারত সীমান্ত লাগোয়া সে দেশের একাধিক মিলিটারি ক্যাম্প গণতন্ত্রপন্থী সংগঠনগুলির সমর শাখা দখল করে নিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে তাই বহু সেনা সদস্যেরও ভারতে চলে আসা ছাড়া বিকল্প রাস্তা নেই।
মিজোরাম সরকার আন্তর্জাতিক রীতি মেনে শরণার্থীদের রাজ্যের একাধিক আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই দিয়েছে। মণিপুরে জাতিদাঙ্গা শুরুর পর রাজ্যে একাধিক ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল। প্রায় ৪০ হাজার মণিপুরবাসীকে আশ্রয় দেওয়া হয় তখন। সেই আশ্রয় শিবিরগুলির কয়েকটিতে মায়ানমারের শরণার্থীদের রাখার ব্যবস্থা হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, মায়ানমারের গোলমাল এখনই থামার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেখানে গণতন্ত্রকামী সব সংগঠনের ভেদাভেদ ভুলে হাত মিলিয়েছে। তার ফলে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে দেশের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চলছে। বহু জায়গায় দেশটির সেনা বাহিনী ব্যারাক ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বিদ্রোহীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা বাহিনী পাল্টা প্রত্যাঘাত করবে ধরেই নেওয়া যায়। তখন শরণার্থী স্রোত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারকে অবস্থান নিয়ে শরণার্থীদের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করা হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে মিজোরামের ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে মিজোরামের অবস্থা কক্সবাজার হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। রাজ্যেক ছয় জেলা চাম্পাই, সিহা, লংন্থলাই, সেরচিপ, হান্থিয়াল এবং সেইচ্যুয়াল জেলা প্রশাসন নয়া শরণার্থী স্রোত নিয়ে চিন্তিত।
এমনিতে মায়ানমারের সেনা সরকারের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকার সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নয়াদিল্লি কখনই কড়া মনোভাব নেয়নি। মায়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও চালু আছে। কিন্তু শরণার্থী স্রোত বাড়তে থাকলে সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায় সেটাই দেখার। চাম্পাইয়ের ডেপুটি কমিশনার জেমস লালরিনচান্না জানিয়েছেন, শরণার্থীদের কাছ থেকে তাঁরা জেনেছেন ভারত সীমান্ত লাগোয়া মায়ানমারের খাওমাওউ এবং রিখাওদার এলাকায় সেনার সঙ্গে বিদ্রোহীদের যৌথ বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের জোর লড়াই চলছে। বহু জায়গায় সেনারা পিছু হটেছে।