পথ দুর্ঘটনায় জখম হলে মিলবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা। আগুন ও দুর্ঘটনা রুখতে নয়া প্রযুক্তি, বড় ঘোষণা করলেন নীতিন গড়করি।

নীতিন গড়করি
শেষ আপডেট: 9 January 2026 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে বাস দুর্ঘটনায় সম্প্রতি বহু মানুষের মৃত্যু হয়। যার রেষ কাটার আগেই আরও একাধিক জায়গার ঘটনা সামনে আসে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের (Road Transport Ministry) রিপোর্ট বলছে, শুধু ২০২৩ সালেই দেশে ঘটেছে ৪,৮০,৫৮৩টি পথ দুর্ঘটনা। গড়ে প্রতি তিন মিনিটে এক জন করে প্রাণ হারিয়েছেন রাস্তায়। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করি (Nitin Gadkari)। এবার থেকে পথদুর্ঘটনায় জখম হলে চিকিৎসা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন ‘পিএম রাহাত’ (PM Rahat) প্রকল্প।
বৃহস্পতিবার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিবহণমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা জানান গড়করি। পথ নিরাপত্তা (Road Safety), যাত্রী সুরক্ষা (Passenger Safety), যান নিয়ন্ত্রণ (Traffic Management) এবং আয়বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে বড়সড় সংস্কারের রূপরেখা সামনে এসেছে।
মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, পথদুর্ঘটনায় আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ থেকে চণ্ডীগড়ে (Chandigarh)। পরে আরও ছয়টি রাজ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। এবার সেই পরিষেবাই দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পের মাধ্যমে। মোটরচালিত যানের (Motor Vehicle) দুর্ঘটনায় জখম হলেই মিলবে এই সুবিধা। দুর্ঘটনার দিন থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ বহন করবে সরকার।
শুধু চিকিৎসাই নয়, দুর্ঘটনা এড়াতে প্রযুক্তির দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। চালু হতে চলেছে ‘ভি টু ভি’ (V2V—Vehicle to Vehicle) প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় একটি গাড়ির চালক অন্য গাড়ির গতি, অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকির তথ্য আগেভাগেই জানতে পারবেন। পাশাপাশি ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে এক যানচালক সরাসরি অন্য যানচালকের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও মোটরচালিত যানবাহন আইন (Motor Vehicles Act) সংশোধনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। নিরাপত্তা, নাগরিক পরিষেবা ও আয়বৃদ্ধি সংক্রান্ত মোট ৬১টি সংশোধনী আনার কথা জানিয়েছেন গড়করি।
চলন্ত বাসে আগুন লেগে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখেছে মন্ত্রক। রাজস্থান (Rajasthan) ও অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh) একাধিক ঘটনায় বহু যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, কারণ আগুন লাগার পর পালানোর পথ পাননি তাঁরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্লিপার কোচ বাস (Sleeper Coach Bus) তৈরির অনুমোদনে কড়া শর্ত জুড়ছে সরকার।
মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন স্লিপার কোচ বাসে বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হবে আগুন শনাক্তকরণ ও নেভানোর ব্যবস্থা (Fire Detection & Suppression System), জানালার কাচ ভাঙার হাতুড়ি, আপতকালীন প্রস্থানপথ (Emergency Exit), আপতকালীন আলো (Emergency Lighting) এবং চালকের ঘুম নির্ণয়কারী প্রযুক্তি (Driver Drowsiness Detection System)। শুধু নতুন বাস নয়, ইতিমধ্যে রাস্তায় চলা স্লিপার কোচগুলিতেও এই সব ব্যবস্থা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।
মন্ত্রকের বক্তব্য, এই নিয়মগুলি কার্যকর হলে চলন্ত বাসে আগুন লাগলেও যাত্রীদের প্রাণরক্ষা ও দ্রুত উদ্ধার অনেকটাই নিশ্চিত করা যাবে। পথ নিরাপত্তার প্রশ্নে এ বার আর আপস নয়—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল কেন্দ্র।