প্রধানমন্ত্রীর মতে, ১৮৩৫ সালে টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিলেন, তা ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যকে আছাড় মেরে পাশ্চাত্য ধ্যানধারণাকে প্রাধান্য দিয়েছিল।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 18 November 2025 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাকলের শিক্ষা নীতির (Macaulay Education Campaign) ২০০ বছর হতে চলেছে। আর তাকে সামনে রেখেই আগামী এক দশকে ঔপনিবেশিক মানসিকতার অবসান ঘটানোর আর্জি জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মঙ্গলবার ষষ্ঠ রামনাথ গোয়েঙ্কা বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘‘ম্যাকলে যে দাসত্বের মানসিকতা তৈরি করে গেছিলেন, তা থেকে দেশকে মুক্ত করতেই হবে।’’
প্রধানমন্ত্রীর মতে, ১৮৩৫ সালে টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলে (Thomas Babington Macaulay) যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিলেন, তা ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যকে আছাড় মেরে পাশ্চাত্য ধ্যানধারণাকে প্রাধান্য দিয়েছিল। মোদী বলেন, ‘‘ম্যাকলে তখন ঘোষণা করেছিলেন, তিনি এমন ভারতীয় তৈরি করবেন যারা দেখতে ভারতীয় হলেও ভাববে ব্রিটিশদের মতো।’’ তাঁর মতে, ওই নীতির ফলে দেশের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়, এবং ‘বিদেশি পথেই সাফল্য’ - এই ধারণা মাথায় গেঁথে বসে।
মোদী দাবি করেছেন, স্বাধীনতার পরও সেই মানসিকতা টিকে রয়েছে বহু মানুষের মধ্যে। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের প্রাচীন শিক্ষাপদ্ধতি (Education System) একসময় দক্ষতা আর বিদ্যার সমান সম্মান দিত। ম্যাকলে সেই মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দিয়েছিলেন। তাই তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করা বন্ধ করতে হবে।’’
ব্রিটিশ ভাষা (British Language) ও চিন্তাভাবনার গুরুত্ব বাড়ার পরিণাম বহু দশক ধরে ভুগেছে দেশ, এমনই মত মোদীর। তাঁর সংযোজন, এর জেরে মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) স্বদেশি দর্শনেও আগ্রহ কমতে থাকে। পাশাপাশি, শাসনব্যবস্থা থেকে উদ্ভাবন - সব ক্ষেত্রেই দেশের মানুষ বিদেশমুখী হয়ে পড়ে। আমদানি-কেন্দ্রিক মানসিকতা এমন জায়গায় পৌঁছয় যেখানে বিদেশি পণ্য, বিদেশি ভাবনা - সবকিছুই ‘উত্তম’ বলে মনে হতে থাকে।
মোদীর বক্তব্য, কোনও দেশ নিজের গৌরবকে অস্বীকার করলে তার স্থানীয় ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে দেশের নির্মাণশিল্প থেকে উদ্ভাবনের স্বনির্ভর পরিকাঠামো পর্যন্ত। তাই তো তিনি বলেছেন, ‘‘আগামী দশ বছর (10 Years) খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই আমাদের ম্যাকলের দাসত্বের মানসিকতা ঝেড়ে ফেলতে হবে।’’
এদিকে, পর্যটনের উদাহরণ টেনে মোদী এও বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিজেদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করে, কিন্তু স্বাধীনতার পরে ভারত তার নিজস্ব বহু ঐতিহ্যকে অবহেলায় ঠেলে দিয়েছে। যদিও এই প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার ইংরেজির বিরোধী নয়; বরং ভারতীয় ভাষার মর্যাদা বাড়াতেই উদ্যোগী। তাঁর কথায়, ‘‘যে মুহূর্তে আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মায় যে মহান হতে হলে বিদেশি পদ্ধতিই একমাত্র পথ, তখনই সমস্যা শুরু হয়।’’ স্বাধীনতার পর সেই ধারণাই আরও পোক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।