
ইন্দোরের হোলকার সায়েন্স কলেজ। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 28 February 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের বিখ্যাত সরকারি হোলকার সায়েন্স কলেজের চার ছাত্র নেতাকে সাসপেন্ড করল কর্তৃপক্ষ। হোলি উপলক্ষে নাচাগানার উৎসবে অনুমতি না দেওয়ায় কলেজের ১৫০ শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীকে আটকে রাখার অভিযোগে ওই চারজনকে টিসি দেওয়া হয়েছে। সরকারি হোলকার সায়েন্স কলেজ হল রাজ্যের অন্যতম একটি সেরা বিজ্ঞান বিভাগের কলেজ। এখানে মেধাবী পড়ুয়ারাই কেবলমাত্র ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। কারণ এই কলেজের শীর্ষস্থানীয় ফলাফলই এই তকমা এনে দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, কলেজের ছাত্রছাত্রীরা আগামী ৭ মার্চ হোলকার কা হোলি ফেস্ট নামে একটি দোল উৎসবের পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেখানে ডিজে এনে রঙের বর্ষা ছুটিয়ে নাচগানের অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষকে। একটি বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে এই ইভেন্টের খরচখরচা দেবে বলেও ঠিক ছিল। এই উৎসবের এন্ট্রি ফি করা হয়েছিল ১৫০ টাকা করে।
কিন্তু, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরে হোলির মতো উৎসবে নাচাগানার অনুষ্ঠানের আয়োজন সাফ নাকচ করে দেয়। আর তাতেই ক্ষোভে ফুসে ওঠে ছাত্ররা। তারা কলেজের অনুমতি না নিয়েই চত্বরে প্রচারের পোস্টার সাঁটিয়ে দেয়। এক পদস্থ কলেজ কর্মী জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা চত্বরে, পাঁচিলে, গেটে এবং বাড়ির দেওয়ালে পোস্টার লাগায় ওই অনুষ্ঠানের। প্রিন্সিপালের বিনা অনুমতিতে ৭ মার্চ ওই অনুষ্ঠান হচ্ছেই বলে তারা প্রচার করতে থাকে। শেষে প্রিন্সিপালের নির্দেশে কলেজ কর্মীরা ওই পোস্টারগুলি ছিঁড়ে দেন ও ব্যানার খুলে ফেলেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ তখন প্রশাসনিক তদন্ত শুরু করে। এরপরেই পোস্টার খুলে ফেলা নিয়ে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রশাসনিক বৈঠকের দিনই কলেজের যশবন্ত হলের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনায় হলের বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেয় বিক্ষোভরত ছাত্ররা।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহিলা অধ্যাপিকা সহ প্রায় ১৫০ জনকে আটকে রেখে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা ভিতরে আটকে পড়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। ছাত্ররা সেই সময় তাঁদের হেনস্তাও করে বলে অভিযোগ। কলেজের প্রিন্সিপাল অনামিকা জৈন বলেন, জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে একটি তদন্ত চালায়। তাতে চার ছাত্র নেতাকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী বলে ধার্য করা হয়। তারাই চার ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলারক্ষায় পদক্ষেপের সুপারিশ করে। চারজনকে কলেজ অফিস থেকে টিসি নিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্দোরের হোলকার রাজবংশের আমলে ১৮৯১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।