একসময় দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের অন্যতম ছিলেন বিজয়পত সিংহানিয়া। জীবনের শেষ অধ্যায়ে ভাড়া বাড়িতে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। শনিবার মৃত্যু হল মুম্বইয়ে।

বিজয়পত সিংঘানিয়া
শেষ আপডেট: 29 March 2026 08:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের সঙ্গে বিবাদের পর থাকতে হয়েছিল ভাড়া বাড়িতে। সন্তানদের অগাদ বিশ্বাসের মূল্য দিতে হয় শেষ বয়সে। আক্ষেপ করেছিলেন বহু জায়গায়। প্রয়াত রেমন্ড গ্রুপের সেই প্রাক্তন চেয়ারম্যান শিল্পপতি বিজয়পত সিংঘানিয়া (Vijaypat Singhania)। শনিবার মুম্বইয়ে (Mumbai) নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮৭। তাঁর মৃত্যুর খবর এক্সে সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান ছেলে গৌতম সিংঘানিয়া (Gautam Singhania)।
সংস্থার মুখপত্র জানান, পদ্মভূষণ এয়ার কমোডোর (Air Commodore) ড. বিজয়পত সিংঘানিয়া, (Padma Bhushan) শান্তিতে পরলোক গমন করেছেন। রবিবার দুপুর ১.৩০টায় রুপারেল মার্গের (Ruparel Marg) হাভেলিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে, এরপর চন্দনওয়াড়ি (Chandanwadi)-তে বিকেল ৩টেয় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
শিল্পজগতে বিজয়পত সিংঘানিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৮০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত রেমন্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (Chairman and Managing Director) হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে সংস্থা দেশ-বিদেশে টেক্সটাইল (Textile) ও অ্যাপারেল (Apparel) শিল্পে শক্তপোক্ত জায়গা করে। ভারতীয় মধ্যবিত্তের কাছে ‘রেমন্ড’ এক বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে সেই সময়েই।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি পারিবারিক টানাপোড়েন জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় তাঁর। ২০১৫ সালে নিজের ৩৭ শতাংশ শেয়ার ছেলে গৌতমের হাতে তুলে দেন। অন্য ছেলে মধুপতি (Madhupati) সিংঘানিয়া সিঙ্গাপুরে (Singapore) চলে যান। পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের অবনতি, আইনি টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, অগাধ ভরসার মূল্য দিতে হয়েছে—সম্পদই শুধু নয়, হারিয়েছেন শান্তি ও পরিবারও।
শুধু ব্যবসা নয় জেআরডি টাটার (JRD Tata) অনুপ্রেরণায় বিমানচর্চায় আগ্রহী হন একসময়ে। ২০০৫ সালে হট এয়ার বেলুনে (Hot Air Balloon) ২১,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় উড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আন্তর্জাতিক এয়ার রেসেও সাফল্য পেয়েছেন। ১৯৯৪ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) তরফে সম্মানসূচক এয়ার কমোডোর উপাধি পান।
সাফল্যের শিখর থেকে জীবনের কঠিনতম বাস্তব—দুইই দেখেছেন বিজয়পত সিংঘানিয়া। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে ‘ফাইটার’ বলেই মনে করতেন। তাঁর কথায়, জীবনের এই শিক্ষা কোনও বিজনেস স্কুল (Business School) শেখাতে পারে না। ভারতীয় শিল্পজগতে তাঁর অবদান ও ব্যক্তিগত লড়াই—দু’টিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।