ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2024 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ২০০৫। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে। পরমাণু চুক্তি নিয়ে সে সময় এগোনোর কথা ভাবছিলেন তিনি। যা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি বামপন্থী ছাত্ররা।
সে কারণে নেহরুর মূর্তি উন্মোচন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেই তাঁর বিরুদ্ধে দেখানো হয় কালো পতাকা, ওড়ানো হয়েছিল কালো শাল। কিন্তু বিক্ষোভের মুখে পড়েও ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনওকম কড়া ব্যবস্থা নয়, একেবারে নম্র হয়ে পরিস্থিতির সামাল দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর কারণে ছাত্রদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করা হয় এবং অনেককে ঘটনাস্থল থেকে আটকও করে দিল্লি পুলিশ। যদিও মনমোহন সিং নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কঠিন না হয়ে ছাত্রদের প্রতি নম্র ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
তবে জেএনইউতে এমন কাণ্ড জে ঘটতে পারে তা আগে থেকেই আঁচ করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তবুও তিনি সেখানে গেছিলেন। পরে বাম ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা যা বলছ, আমার তাতে অমত থাকতেই পারে। কিন্তু তোমাদের কথা বলার অধিকার আমি প্রাণ দিয়েও রক্ষা করব। উদারবাদী প্রতিষ্ঠানের ভাবনা এমনটাই হওয়া উচিত।’ তারপরে জেএনইউ-র তৎকালীন উপাচার্য বি বি ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন, ‘স্যার, ছাত্রছাত্রীদের ক্ষমা করে দেবেন।’
শুধু ২০০৫ সালেই নয়, জরুরি অবস্থার সময়ে জেএনইউ ক্যাম্পাসেই ইন্দিরা গান্ধীর বক্তৃতার সময়ে ছাত্রছাত্রীরা এমন স্লোগান তুলেছিল যে রে়ডিয়োয় প্রধানমন্ত্রীর গলা স্লোগানে চাপা পড়ে যায়। তবে বেছে বেছে শুধু কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা নন। বাজপেয়ী জমানায় পোখরানে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার পরে জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মুরলীমনোহর জোশী। আওয়াজ উঠেছিল, পরমাণু বোমা নয়। শিক্ষায় বরাদ্দ চাই।
বৃহস্পতিবার দিল্লির এইমস-এ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ভর্তি করা হয়েছিল প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে। প্রথমে এমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে। পরে তাঁকে আইসিইউয়ে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রাত ১০টা নাগাদ খবর আসে আর বেঁচে নেই মনমোহন।
ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন ড. মনমোহন সিং। তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।