ইতিমধ্যে প্রশাসন ওই মেডিক্যাল দোকানটি সিল করে দিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ থাকবে।

মৃত ৫ মাসের শিশু
শেষ আপডেট: 31 October 2025 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ছিন্দওয়ারা জেলায় ফের শিশুমৃত্যুর কারণ কাশির সিরাপ (cough syrup child death) বৃহস্পতিবার সকালে মাত্র পাঁচ মাস বয়সি রুহি মিনোতের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, তাকে এমন কিছু ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল, যার মধ্যে ভেষজ কাশির সিরাপও (herbal cough syrup) ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই একই জেলায় নকল কফ সিরাপ (fake cough syrup) খেয়ে ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এখনও সেই ঘটনার রেশ কাটেনি, তার মধ্যেই ফের এমন বিপর্যয়।
ঘটনাটি ছিন্দওয়ারার (Chhindwara) বিচুয়া শহরের। অভিযোগ, সোমবার রুহির বাবা-মা তাঁকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসক না পেয়ে পাশের একটি বেসরকারি মেডিকেল দোকান, কুরেঠে মেডিক্যালস-এ যান। সেখান থেকে কয়েকটি ছোট স্যাশেতে ওষুধ এবং একটি ভেষজ কাশির সিরাপ দেওয়া হয়।
রুহির বাবা সন্দীপ মিনোতে জানান, “শুরুতে মেয়ের অবস্থা একটু ভাল হয়েছিল, কিন্তু মঙ্গলবার থেকেই আবার খারাপ হতে থাকে। বৃহস্পতিবার সকালে কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার জানান, ও আর নেই।”
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচুয়া থানার পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৯৪ ধারা অনুযায়ী ইনকোয়েস্ট রেজিস্টার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওষুধ সরবরাহকারী দুই দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ দফতর এবং স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ টিম ওই ওষুধের নমুনা বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। “অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” জানিয়েছেন বিচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সতীশ ওইকে।
ইতিমধ্যে প্রশাসন ওই মেডিক্যাল দোকানটি সিল করে দিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ থাকবে।
এর আগের মাসেই ছিন্দওয়ারার পারাসিয়া ও চৌরাই এলাকায় কল্ডরিফ কফ সিরাপ খেয়ে ২০ শিশুর মৃত্যু হয়। তামিলনাড়ুর শ্রেষণ ফার্মা নামের সংস্থার তৈরি ওই ওষুধের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন সরকারি শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রবীণ সোনি, যিনি নিজস্ব প্রাইভেট চেম্বার থেকে সিরাপটি লিখে দিতেন। সেই মামলায় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ইতিমধ্যেই ডাঃ সোনি-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে আছেন শ্রেষণ ফার্মা-র মালিক রঙ্গনাথন গোবিন্দনও।
বৃহস্পতিবার নতুন মোড় নেয় মামলাটি। SIT তদন্তে উঠে এসেছে, ডাঃ সোনির স্ত্রী জ্যোতি সোনি নাকি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, এবং তিনি এখন পলাতক।
রুহির মৃত্যুর পর ছিন্দওয়ারা জুড়ে প্রবল ক্ষোভ। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, রাজ্যের সমস্ত ফার্মেসির কড়া লাইসেন্স যাচাই, ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ বিক্রিতে নিয়মিত তদারকি এবং শিশু চিকিৎসায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।