ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গঠনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৫১ জন প্রধান বিচারপতি হয়েছেন এবং তাঁরা সকলেই পুরুষ।

শেষ আপডেট: 14 May 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৫ বছরেও দেশের শীর্ষ আদালতে কোনও মহিলা প্রধান বিচারপতি হননি। মহিলা বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে এত বছরে কাজ করেছেন মাত্র ১১ জন মহিলা। তবে অবশেষে সেই ইতিহাস বদলাতে চলেছে। অভিজ্ঞতার ক্রম অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতে প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি (First Woman CJI) হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিচারপতি বি ভি নাগরত্না (Justice BV Nagarathna)। যদিও তাঁর মেয়াদ হবে মাত্র ৩৬ দিনের। তা সত্ত্বেও, দেশের বিচারব্যবস্থায় এই ঘটনা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
বুধবার দেশের ৫২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাই (Justice Bhushan Ramkrishna Gavai)। তিনি এই পদে থাকবেন ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ ছয় মাসের মতো সময়ের জন্য। যদিও এই মেয়াদ অল্প বলেই মনে হয়, তবে নাগরত্নার ৩৬ দিনের মেয়াদ তার চেয়েও কম।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গঠনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৫১ জন প্রধান বিচারপতি হয়েছেন এবং তাঁরা সকলেই পুরুষ। বিচারপতি নাগরত্না ৫৪ তম সিজেআই হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। বর্তমানে তিনি এবং বেলা এম ত্রিবেদী সুপ্রিম কোর্টের একমাত্র দুই মহিলা বিচারপতি।
১৯৮৯ সালে ফাতিমা বিবি প্রথম মহিলা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পদে নিযুক্ত হলেও, তিনিও মাত্র আড়াই বছর কাজ করার পর অবসর নেন। সেই তুলনায় বিচারপতি নাগরত্নার সর্বমোট মেয়াদ (CJI ছাড়াও) হবে ছ’বছর দুই মাস— যা কোনও মহিলা বিচারপতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
ভারতের বিচারব্যবস্থায় একটা অলিখিত নিয়ম আছে— সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতিকেই সাধারণত প্রধান বিচারপতি করা হয়। এই নিয়মের ফলেই অনেক সময় প্রধান বিচারপতিদের মেয়াদ হয়ে যায় খুবই অল্প সময়ের। যেমন, সবচেয়ে কম মেয়াদের প্রধান বিচারপতি ছিলেন কামাল নারায়ণ সিং, মাত্র ১৭ দিন এই পদে ছিলেন। নাগরত্নার মেয়াদ হবে ৩৬ দিন, যা হবে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বনিম্ন।
এই প্রসঙ্গে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নাগরত্না হলেন দেশের দ্বিতীয় বাবা-মেয়ে, যাঁরা দু’জনেই দেশের প্রধান বিচারপতি পদে কাজ করবেন। তাঁর বাবা, ই এস ভেঙ্কটারামাইয়া ছিলেন দেশের ১৯তম সিজেআই।
ভারতের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে মহিলাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত। ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, হাইকোর্টে বিচারপতিদের মাত্র ১৪ শতাংশ মহিলা। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি নাগরত্নার সিজেআই হওয়া আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।