মোট ২৭২ কিমি দীর্ঘ ইউএসবিআরএল প্রকল্পের মধ্যে ২০৯ কিমি অংশ ধাপে ধাপে চালু হয়েছে।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 14 May 2025 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার আর পরীক্ষামূলকভাবে নয়। থমথমে কাশ্মীরের বুক চিরে প্রথমবার ঢুকল যাত্রীবাহী রেল (First Passenger Train in Kashmir)। দিল্লি থেকে শ্রীনগর আবার শ্রীনগর থেকে দিল্লি ফিরল ২২ বগির ট্রেনটি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল ভারতীয় সেনার সদস্যরা।
মঙ্গলবার প্রায় ৮০০ জন সেনাকে নিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন হয়। উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল সংযোগ (USBRL)প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পর এই প্রথম সম্পূর্ণ ট্রেনযাত্রা সম্ভব হল। ছুটিতে থাকা ও কাশ্মীরে বিমান বাতিলের কারণে আটকে পড়া সেনা সদস্যদের জন্য এই ট্রেনযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি থেকে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে প্রথমে কাটরায় পৌঁছয়। সেখান থেকে সেনারা অন্য একটি ট্রেনে করে শ্রীনগর যান। কাটরা থেকে শ্রীনগরের এই যাত্রাপথ সম্পূর্ণ হতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ ঘণ্টা।
মূল রেললাইনে সর্বোচ্চ ৮৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ এবং টার্নআউটে ১৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে ট্রেন চালানোর অনুমোদন দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ২২ বগির একটি ট্রেন কাটরা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চলেছিল, যা ছিল কাশ্মীরকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করার চূড়ান্ত ধাপ।
কাটরা-শ্রীনগর এই রেলপথের উদ্বোধন এপ্রিলে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সফর পিছিয়ে যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে, কিন্তু ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া ও প্রকৌশলগত জটিলতার কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি এতগুলো বছর ধরে।
মোট ২৭২ কিমি দীর্ঘ ইউএসবিআরএল প্রকল্পের মধ্যে ২০৯ কিমি অংশ ধাপে ধাপে চালু হয়েছে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে ১১৮ কিমি দীর্ঘ কাজিগুন্ড-বারামুল্লা অংশ, ২০১৩ সালের জুনে ১৮ কিমি বানিহাল-কাজিগুন্ড, ২০১৪ সালের জুলাইয়ে ২৫ কিমি উধমপুর-কাটরা এবং গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৪৮.১ কিমি দীর্ঘ বানিহাল-সাঙ্গলদান রুট চালু হয়। এরপর ২০২৪ সালের জুনে ৪৬ কিমি সাঙ্গলদান-রেয়াসি অংশ সম্পূর্ণ হয়। শেষ পর্যন্ত রেয়াসি থেকে কাটরার মাঝের ১৭ কিমি রুট ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হলে পুরো রেলপথ চালু হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। হাসি ফোটে কাশ্মীরবাসীর মুখে।
তবে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রেল সংযোগ শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, সেনাবাহিনীর পক্ষেও এক বড় সাফল্য এবং কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে দেশের মূলভূখণ্ডের সংযোগকে আরও দৃঢ় করল তা বলা বাহুল্য।