কেরলের পাশাপাশি রাজধানী দিল্লিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন এপর্যন্ত। গুজরাতে ১৫ জন করোনা আক্রান্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে শুক্রবার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 May 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে ফের হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। কেরালায় চলতি মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮২ জন। এই মরশুমে প্রথম মৃত্যু দেখল এই রাজ্যই। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন দু'জন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক নয়। তবে গত দু’দিনে রাজ্যে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। মৃত দুই ব্যক্তির একজনের বয়স ৫৯ এবং আরেকজনের ৬৪ বছর। তাঁরা তিরুবনন্তপুরমের বাসিন্দা ছিলেন। সেখানকারই একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়।
৫৯ বছর বয়সি ব্যক্তি কল্লামের থালাভুরের বাসিন্দা। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ১৯ মে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে এবং ২০ মে তাঁর মৃত্যু হয়। অপরজন, তিরুবনন্তপুরমের ভাঝাইলা এলাকার বাসিন্দা, মৃত্যু হয় ১৬ মে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, দু’জনেরই কোভিড পজিটিভ ছিল এবং হৃদরোগ-সহ অন্যান্য কোমর্বিডিটিও ছিল। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কোভিড সংক্রমণ থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নয়। কেরালার হাসপাতালগুলো এখনও গর্ভবতী মহিলা ও অস্ত্রোপচার হয়েছে এমন রোগীদের কোভিড পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে করে থাকে। তাঁদের কারও মধ্যেই সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য দফতরের অনুমান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সংক্রমণ বাড়ার জন্য রাজ্যেও কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ মৃদু, তবে যাঁদের আগেই শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছেই।
এই সাম্প্রতিক সংক্রমণের পেছনে ওমিক্রনের JN.1 সাব-লাইনেজ LF.7 ও NB.1.8 সক্রিয় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নমুনা পাঠানো হয়েছে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে জিনগত বিশ্লেষণের জন্য।
তিরুবনন্তপুরমের এপিডেমিওলজিস্ট ডঃ আলথাফ এ বলেন, 'এই সংক্রমণের পিছনে হার্ড ইমিউনিটি (গোষ্ঠী প্রতিরোধ ক্ষমতা)-তে সমস্যা থাকতে পারে। এই ধরনের ইমিউনিটি কমে গেলে সংক্রমণ হতে পারে শরীরে। যদি ভাইরাসটি খুব বেশি সংক্রামক হত, তবে এতদিনে আরও বহু কেস দেখা যেত, কারণ এখন আর কোনও বিধিনিষেধ নেই। তবুও সচেতন থাকা জরুরি।' তিনি আরও বলেন, 'এখন যেভাবে মানুষের দৃষ্টি শুধুই কোভিডের দিকে, তাতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ রোগ যেমন লেপ্টোস্পাইরোসিস, যা এ বছরেই ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।'
কেরলের পাশাপাশি রাজধানী দিল্লিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন এপর্যন্ত। গুজরাতে ১৫ জন করোনা আক্রান্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে শুক্রবার। হরিয়ানার গুরুগ্রাম এবং ফরিদাবাদেও কোভিড-১৯ আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। কর্নাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুণ্ডুরাও জানান, তাঁর রাজ্যে ১৫জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন।