এখন মহিলাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। একটি বিশেষ দল পরে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হবে তা স্থির করবেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 July 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেটব্যথা, বমি, এই সাধারণ উপসর্গ নিয়েই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের এক ৩০ বছর বয়সি মহিলা। প্রাথমিকভাবে আলট্রাসাউন্ডে কিছুই ধরা পড়েনি। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পাঠানো হয় মীরাটের একটি বেসরকারি ইমেজিং সেন্টারে। সেখানে পরীক্ষার পর রীতিমতো চমকে যান সকলে।
হাই রেজলিউশনের এমআরআই পরীক্ষায় ধরা পড়ে, ওই মহিলার লিভারের মধ্যে বেড়ে উঠছে ১২ সপ্তাহের ভ্রূণ। চিকিৎসকরা জানান, এই রোগের নাম ইনট্রাহেপাটিক ইক্টোপিক প্রেগন্যান্সি। অর্থাৎ জরায়ুর বাইরে, সোজাভাবে বললে লিভারের মধ্যে ভ্রূণের বিকাশ।
এই বিরল ঘটনার খবর জানান ডা. কে কে গুপ্ত, যিনি ওই এমআরআই রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করছিলেন। বলেন, 'আমি বহু বছর ধরে রেডিয়োলজির সঙ্গে যুক্ত। এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। প্রথমে মনে হয়েছিল যন্ত্রের ত্রুটি। পরে একাধিক অ্যাঙ্গল থেকে পুনরায় স্ক্যান করেও একই দৃশ্য পেলাম। ভ্রূণের হৃদস্পন্দন পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।'
তাঁর কথায়, 'ভ্রূণটি লিভারের ডান দিকের লোবের ভিতরে ছিল। রক্ত চলাচলের মাধ্যম ছিল লিভারের শিরা-উপশিরা। আর মহিলার জরায়ু ছিল পুরোপুরি খালি।'
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় এই ধরণের জটিলতা পৃথিবীতে বিরল। ভারতের ক্ষেত্রে এটাই সম্ভবত প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা। এধরনের গর্ভাবস্থা মা ও ভ্রূণ, দুইয়ের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
এখন মহিলাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। একটি বিশেষ দল পরে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হবে তা স্থির করবেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নব্য মুম্বইয়ে ৩২ বছর বয়সি হর্ষালি পালসোদকারের ক্ষেত্রে ধরা পড়েছিল কর্নুয়াল ইক্টোপিক প্রেগন্যান্সি, যেখানে জরায়ুর শিং-এর মতো অংশে ভ্রূণ বেড়ে ওঠে। তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়।
বিশ্বব্যাপী তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ৬৭ লক্ষেরও বেশি ইক্টোপিক প্রেগন্যান্সির ঘটনা ঘটেছিল। প্রতি লক্ষে গড়ে ১৭০ জনের ক্ষেত্রে দেখা যায় এই সমস্যা। তবে চিকিৎসা এবং সচেতনতার ফলে সংখ্যাটা তুলনামূলক কমছে।