একাধিক ছাত্রীর বয়ান সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ দায়েরের ভিত্তিতে বসন্ত কুঞ্জ নর্থ থানায় ইতিমধ্যেই মামলাও রুজু করেছে পুলিশ (Police)।

স্বঘোষিত গডম্যান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী
শেষ আপডেট: 25 September 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বসন্ত কুঞ্জে শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট (Sri Sharada Institute) অব ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের ছাত্রীদের উপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্থা চালানোর (sexual harassment) অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত গডম্যান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর (Swami Chaitanyananda Saraswati) বিরুদ্ধে। একাধিক ছাত্রীর বয়ান সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ দায়েরের ভিত্তিতে বসন্ত কুঞ্জ নর্থ থানায় ইতিমধ্যেই মামলাও রুজু করেছে পুলিশ (Police)।
কলেজের ভার্চুয়াল ইন্টারঅ্যাকশনের সময় একাধিক ছাত্রী জানিয়েছিলেন, কীভাবে চৈতন্যানন্দ তাঁদের উপরে শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করতেন। বলা হয়েছে, রাতের বেলা তাঁর কোয়ার্টারে যেতে ছাত্রীরা বাধ্য হতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ডিগ্রি আটকে দেওয়ার বা সাসপেন্ড করার হুমকি দেওয়া হত। এমনকি এক ছাত্রীকে নিজের নাম পর্যন্ত পাল্টাতে বাধ্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
২১ বছরের এক ছাত্রী জানিয়েছেন, গত বছর প্রথম তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় চৈতন্যানন্দের। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর অশ্লীল চ্যাট। মাঝরাতে মেসেজ আসত, “বেবি, আই লাভ ইউ… তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে”। উত্তর না দিলে জোর করে চৈতন্যানন্দ রিপ্লাই করাতেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী।
তিনি আরও বলেন, একবার তাঁর আঘাত লাগার পর মেডিক্যাল রিপোর্ট শেয়ার করতেই চৈতন্যানন্দ ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ শুরু করেন। ক্রমে কথাবার্তা পৌঁছয় তাঁর চুল, শরীর, চেহারা নিয়ে।
অভিযোগ, বিষয়টি ডিনকে জানানো হলে উল্টে বলা হয় ‘উনি হেড, তাই রিপ্লাই দিতেই হবে’। প্রতিবাদ করায় হাজিরা কম দেখানো, পরীক্ষায় নম্বর কেটে নেওয়ার মতো কৌশল অবলম্বন করা হয়। এমনকি নতুন বিএমডব্লিউ কেনার সময় ছাত্রীদের নিয়ে হৃষীকেশে যাওয়া হয়, আর ফেরার পথে গাড়ির ভিতরেও হেনস্থা চলতে থাকে।
একই সঙ্গে আরও ছাত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁদের বারবার বলা হয়, ফোনে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ডিলিট করতে। তিনজন মহিলা ওয়ার্ডেন এই কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতেন। তাঁদের নামও সহ-অভিযুক্ত হিসেবে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্তের খোঁজে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। দেশ ছেড়ে পালানোর আশঙ্কায় লুক-আউট নোটিসও জারি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইনস্টিটিউটের বেসমেন্ট থেকে একটি ভলভো গাড়ি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে ভুয়ো নম্বর প্লেট “39 UN 1” লাগানো ছিল।
চৈতন্যানন্দ সরস্বতী, যিনি আগে স্বামী (ডঃ) পার্থসারথী নামে পরিচিত ছিলেন, মোট ২৮টি বই লিখেছেন। সেই বইগুলির ভূমিকায় একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে।
অন্যদিকে, কর্নাটকের শ্রিংগেরি শারদা পীঠম, যার সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত ছিল, তারা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চৈতন্যানন্দের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৭৫(২) (যৌন হেনস্থা), ৭৯ (মহিলার শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে শব্দ/ইঙ্গিত/অঙ্গভঙ্গি), এবং ৩৫১(২) (ফৌজদারি ভীতি প্রদর্শন)-এর অধীনে মামলা রুজু হয়েছে।