
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 March 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) শিশু হত্যার অভিযোগ ছিল উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) তরুণী শাহজাদি খানের (Shahzadi Khan) বিরুদ্ধে। তাঁকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি দেওয়া হয়। যদিও সেই খবর শাহজাদির বাবা জানতে পারেন ৩ মার্চ! তারপর তিনি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, অন্যায় হয়েছে তাঁদের সঙ্গে। জীবিত অবস্থায় মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন তাঁর শেষকৃত্যে যাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে পারছে না।
গত ২ মার্চ মেয়ের শারীরিক অবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জানতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শাহজাদির বাবা সাব্বির খান। বিদেশমন্ত্রক যাতে সব তথ্য জানায়, সেই আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে মাত্র একদিনের মধ্যেই তাঁর কাছে খবর আসে, ১৫ দিন আগেই মেয়ের ফাঁসি হয়ে গেছে। এরপরই ভেঙে পড়েন তিনি। সংবাদমাধ্যমে সাব্বির বলেছেন, ''সরকারের উচিত আমার দুবাই যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া। আমি তাহলে মেয়ের শেষকৃত্যে থাকতে পারব। জীবিত অবস্থায় তো মেয়েকে ফেরত পেলাম না, অন্তত মৃতদেহটা তো দেখতে দিন...''
ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আমিরশাহির ভারতীয় দূতাবাস গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই ফাঁসি সম্পর্কে জানতে পারে। সরকারিভাবে সেদিনই সেই তথ্য তাঁদের দেওয়া হয়েছিল। এও জানানো হয়েছে, সরকারের তরফে সম্পূর্ণ চেষ্টা করা হয়েছিল শাহজাদির সাজা কম করতে, কিন্তু কিছু করা যায়নি। আগামী ৫ মার্চ শাহজাদির শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। যদিও শাহজাদির পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের এও বক্তব্য, সে কোনও অপরাধী ছিল না, বরং তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের বান্দায় থাকতেন শাহজাদি। তাঁর ভাই শামশের জানিয়েছেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের কাছে একটি ফোন এসেছিল। সেটি করেছিলেন শাহজাদি। ওই দিনই শেষবার তাঁর সঙ্গে সকলের কথা হয়। শামশেরের কথায়, ''দিদি জানায়, এটাই তাঁর শেষ ফোন। জীবনের অন্তিম পর্যায়ে বাবা-মার সঙ্গে শেষবার কথা বলতে চেয়েছিল সে। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারিনি আমরা।'' তিনি এও বলেন, ওই ফোনের পর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁরা বহুবার যোগাযোগ করেন। প্রায় পাগলের মতো শাহজাদির তথ্য জানতে চান। কিন্তু সেভাবে কোনও লাভ হয়নি।
কোভিডের সময় শাহজাদি বান্দায় একটি ব্যাঙ্কে কাজ করতেন। সেই সময় ফেসবুকে উজাইর নামে আগ্রার এক বাসিন্দার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। ছোটবেলাতেই মুখ পুড়ে গিয়েছিল শাহজাদির। উজাইর আশ্বাস দিয়েছিল সে তাঁর প্লাস্টির সার্জারি করিয়ে দিতে সাহায্য করবে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁর থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে শাহজাদিকে দুবাই পাঠিয়েছিল সে। পরে শাহজাদি বুঝতে পারে চিকিৎসার অজুহাতে এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। পরবর্তীতে দম্পতি তাঁকে আবুধাবিতে নিয়ে যান। সেখানেই ওই দম্পতির একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয় যার দায় গিয়ে পড়ে শাহজাদির ওপর।
২০২৩ সালের ঘটনা। ৪ মাসের ওই শিশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। তারপরই তার মৃত্যু হয়। দম্পতির দাবি, শাহজাদির গাফিলতির কারণে মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল ময়নাতদন্তের সুপারিশ করলেও শিশুর বাবা-মা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই আদালত শাহজাদিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।