জঙ্গি সংগঠনগুলি কয়েক বছর ধরে খুবই প্রযুক্তি-কৌশলী হানাদারি চালাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন কাজে তারা পরিচয় গোপন রাখতে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন পেমেন্ট পরিষেবার আশ্রয় নিচ্ছে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 9 July 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা ও ২০২২ সালে গোরক্ষনাথ মন্দির আক্রমণে জঙ্গিরা অ্যামাজন (Amazon) থেকে বিস্ফোরক কিনেছে এবং PayPal অনলাইনে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দাম মিটিয়েছে। মঙ্গলবার এই পিলে চমকে দেওয়া তথ্য জানিয়েছে, জঙ্গিদের অর্থ মদত ও লেনদেন সংক্রান্ত কারবারের উপর নজর রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সহযোগী সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)।
জঙ্গি সংগঠনগুলি কয়েক বছর ধরে খুবই প্রযুক্তি-কৌশলী হানাদারি চালাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন কাজে তারা পরিচয় গোপন রাখতে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন পেমেন্ট পরিষেবার আশ্রয় নিচ্ছে। অর্থ সংগ্রহ, লেনদেন, হস্তান্তর ছাড়াও জঙ্গি হামলার কাজে তারা ডিজিট্যাল প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন রিপোর্টে একথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)। Comprehensive Update on Terrorist Financing Risks নামে এই রিপোর্টেই ভারতের দুটি জঙ্গি হামলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে FATF।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গিরা ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে চাঁদা সংগ্রহ করছে। সেই টাকা বিভিন্ন হাত ঘুরে দলীয় তহবিলে জমা করছে। এবং সংগঠনের অর্থ রসদ ভাণ্ডারকে ফুলিয়েফাঁপিয়ে তুলছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কৌশলের হাত দিয়ে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হানায় বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল অ্যালুমিনিয়াম পাউডার। আর এই বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম গুঁড়ো জঙ্গিরা কিনেছিল অ্যামাজন মারফৎ।
পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের এই আত্মঘাতী হানায় কাশ্মীরে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহারক করে এই হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। পুলওয়ামা ছাড়াও গোরক্ষনাথ মন্দির হামলায় বিদেশ থেকে PayPal ব্যবহার করে আইসিস জঙ্গির কাছে ৬.৭ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। ভারতে ইসলামিক স্টেট পন্থীদের হাতে রসদ জোগাতে এই টাকা এসেছিল বলে এফএটিএফের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্ত জঙ্গি VPN পরিষেবা ব্যবহার করে তার লোকেশন আড়াল করে গিয়েছিল। ভারতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তার নামে প্রায় ৪৪টি বৈদেশিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এসব দেখে পেপাল ওই লোকের অ্যাকাউন্ট বাতিল করে দেয়। এফএটিএফ তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, অত্যন্ত দ্রুত, সহজ এবং মূল উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন বলে জঙ্গিরা এ ধরনের পেমেন্ট চ্যানেলগুলির আশ্রয় নিচ্ছে। এছাড়াও গত এক দশক ধরে ফিনটেক প্ল্যাটফর্মগুলির ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে জঙ্গি সংগঠনগুলি।
আন্তর্জাতিক সংস্থা আরও সতর্ক করে বলেছে, কিছু জাতীয় সরকার জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এখনও সাহায্য করে চলেছে। যদিও রিপোর্টে কোনও দেশের নাম করা হয়নি। তারা রাষ্ট্রের মদতে সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে রিপোর্টে।