হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, পরে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে ডিগ্রির প্রমাণপত্র জমা দিতে বলা হয়। তারপর আচমকাই হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যান পঙ্কজ।

শেষ আপডেট: 7 June 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ধরা পড়লেন ভুয়ো চিকিৎসক। মধ্যপ্রদেশের পর এবার হরিয়ানা। তবে এই ক্ষেত্রে ঘটনাটা একটু অন্যরকম। নিয়মমাফিক এমবিবিএস ডিগ্রি পেয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু কার্ডিয়োলজিস্ট বলে পরিচয় দিয়ে গত আট মাসে ৫০টিরও বেশি হৃদ্রোগ সংক্রান্ত জটিল অপারেশন করেছেন ওই চিকিৎসক। তিনি কোনও স্বীকৃত হার্ট বিশেষজ্ঞই নন। ফরিদাবাদের বাদশাহ খান সিভিল হাসপাতালের হার্ট কেয়ার সেন্টারের এই ঘটনা সামনে আসতেই ছড়িয়েছে উত্তেজনা।
‘ভুয়ো’ ওই চিকিৎসকের নাম পঙ্কজ মোহন শর্মা। সাধারণ চিকিৎসক হলেও নিজেকে ডিএনবি (কার্ডিওলজি) ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং একটি চুরি করা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে বহু রোগীর জীবন এতমাস ধরে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন তিনি।
ফরিদাবাদের এনআইটি থানায় ১১ এপ্রিল অ্যাডভোকেট ও সমাজকর্মী সঞ্জয় গুপ্তার দায়ের করা অভিযোগ থেকে বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগে বলা হয়, পঙ্কজ শর্মা জাল কাগজপত্র তৈরি করে অতিরিক্ত ডিগ্রি অর্জনের দাবি করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি ভারতের জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের (NMC) আসল কার্ডিয়োলজিস্ট ডা. পঙ্কজ মোহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর (২৪৫৬) চুরি করে ব্যবহার করছিলেন। অথচ তাঁর নিজস্ব রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ২৮৪৮২, যা শুধুমাত্র MBBS পর্যায়ের।
গত বছর জুলাই মাসে মেদিটারিনা হাসপাতালে তিনি যোগ দেন। এই প্রতিষ্ঠানটি বাদশাহ খান সিভিল হাসপাতালের হার্ট কেয়ার সেন্টারের সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে রোগী পরিষেবা দিয়ে থাকে। কাজে যোগ দেওয়ার সময় তিনি নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে নিজেকে কার্ডিয়োলজিস্ট হিসেবে প্রমাণ করতে শুরু করেন।
প্রেসক্রিপশন ও স্ট্যাম্পেও লেখা ছিল ‘DNB (Cardiology)’ যা তিনি আদৌ অর্জন করেননি। প্রসঙ্গত, এই ডিগ্রি এমডি ডিগ্রির সমান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, পরে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে ডিগ্রির প্রমাণপত্র জমা দিতে বলা হয়।
ফেব্রুয়ারিতে ডিগ্রি জমা দিতে বলা হলে আচমকাই হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যান পঙ্কজ। বহু রোগী তখন খোঁজখবর শুরু করেন এবং প্রকৃত ডা. পঙ্কজ মোহনের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, তিনি কখনও ওই সেন্টারে কাজই করেননি।
এরপরেই বিষয়টি আরও জোরালো হয়। প্রকৃত ডা. মোহন জানুয়ারিতে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে অভিযোগ দায়ের করেন এবং ওই ভুয়ো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠান।
এখানেই শেষ নয়। জানা গেছে, পঙ্কজ শর্মা ফেসবুকে ‘ক্ষিতিজ মোহন’ নামে একটি প্রোফাইল চালাতেন এবং সেখানে নিজেকে একটি ফিল্ম প্রোডাকশন কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে পরিচয় দিতেন। ফলে সব মিলিয়ে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
মেদিটারিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং বাদশাহ খানের হার্ট সেন্টারের প্রধান ডঃ এম প্রতাপ কুমার জানান, ‘ওই চিকিৎসক আমাদের কাছে এমবিবিএস হিসেবে আবেদন করেন। তাঁর ডিএম (কার্ডিওলজি) ডিগ্রি নিয়ে আমাদের সন্দেহ জেগেছিল, তাই আমরা তদন্ত শুরু করি এবং পরে তাঁকে বরখাস্ত করি।’
প্রসঙ্গত, বন্ধুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি ব্যবহার করে মধ্যপ্রদেশের এক ব্যক্তি ডাক্তার সেজে বছরের পর বছর ধরে রোগী দেখেছেন। অবশেষে তাঁর ভুয়ো চিকিৎসায় এক বৃদ্ধার মৃত্যুর পর ফাঁস হয় চাঞ্চল্যকর ওই কেলেঙ্কারি।