আইএসআই-এর অঙ্গুলিহেলনেই যে দানিশ এইসব কাজ করতেন তা স্পষ্ট। কিন্তু কীভাবে হত 'রিক্রুটমেন্টের' কাজ?

দানিশ এবং জ্যোতি মলহোত্রা
শেষ আপডেট: 23 May 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রা (Jyoti Malhotra) আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন, কীভাবে পাক হাই কমিশনের আধিকারিক দানিশের (Danish) সাহায্যে তিনি পাকিস্তানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে তথ্য পেয়েছেন যে, দানিশ আদতে একজন আইএসআই এজেন্ট (ISI Agent)। সেই থেকেই সন্দেহ, তিনি কোনও কৌশলে জ্যোতিকে হয়তো ফাঁদে ফেলেছিলেন। তবে শুধু জ্যোতিই তাঁর 'টার্গেট' ছিলেন না।
দু'বার পাকিস্তানে গেছিলেন জ্যোতি এবং দু'বারই তাঁকে সাহায্য করেছিলেন দানিশ। ইতিমধ্যে গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পেয়েছেন তাতে অনুমান, দানিশ হাই কমিশনের ডেস্কে কাজ করতেন ঠিকই কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির কাজ করতে পারবে এমন কাউকে খোঁজা। আর জ্যোতির মতো তিনি আরও কমপক্ষে ২৫ জনকে 'টার্গেট' করেছিলেন বলে সূত্রের খবর।
আইএসআই-এর অঙ্গুলিহেলনেই যে দানিশ এইসব কাজ করতেন তা স্পষ্ট। কিন্তু কীভাবে হত 'রিক্রুটমেন্টের' কাজ? মনে করা হচ্ছে, যারাই পাকিস্তানের ভিসার জন্য আবেদন করতেন তাদের নথি ভালভাবে খতিয়ে দেখতেন দানিশ। লক্ষ্য রাখতেন সেই ব্যক্তি এর আগে কতবার সে দেশে গেছেন বা পাকিস্তানের কোনও শহরে তার কোনও আত্মীয় থাকেন কিনা। মিল খুঁজে পেলেই চেষ্টা করা হত তাকে ফাঁদে ফেলার। কিন্তু জ্যোতিকে কীভাবে দলে টানলেন দানিশ?
ইউটিউবার হিসেবে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ালেও পাকিস্তানের প্রতি বিদেশ আকর্ষণ ছিল জ্যোতির। আর তিনি যে দানিশের দ্বারাই ভিসার আবেদন করেছিলেন তা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন। এতএব বিষয়টি স্পষ্ট। জ্যোতির মতো একজন ট্রাভেল ভ্লগার, যিনি পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য কার্যত ছটপট করছিলেন, তাঁকে অনায়াসেই হাতের মুঠোয় পেয়ে গেছিলেন দানিশ। তাই এক্ষেত্রে বেশি পরিশ্রম করতে হয়নি তাঁকে।
পাকিস্তানে ঘুরতে যাওয়ার পর জ্যোতি একাধিক ভিডিও বানিয়েছিলেন। তার অনেকগুলিতে তাঁকে দানিশ এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে দেখা গেছিল। এমনকী সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়মের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন জ্যোতি। যার নেপথ্যে দানিশ ছিলেন বলেই ধারণা গোয়েন্দাদের। শুধু তাই নয়, জ্যোতি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ থেকেও জানা গেছে, তিনি পাকিস্তানেই কাউকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন! এর নেপথ্যেও যে দানিশের কারসাজি ছিল তা অনুমান করা কষ্টসাধ্য নয়। এখন এও সন্দেহ করা হচ্ছে, যুবকের নাম আদতে দানিশ বা এহসান নয়! আইএসআই তার আসল পরিচয় লুকোতে এই নাম দিয়েছে।