কেরিয়ার ও সম্পর্ক নিয়ে তর্কের জেরে যমজ বোনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করল এক ইঞ্জিনিয়ার। ঘটনার পর মাকেও আক্রমণ করে অভিযুক্ত, গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

ইঞ্জিনিয়ার ও তাঁর মা-বোন
শেষ আপডেট: 14 March 2026 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পারিবারিক অশান্তির জেরে ভয়াবহ পরিণতি। যমজ বোনকে নৃশংসভাবে খুন করার পর মাকেও ছুরি নিয়ে আক্রমণ করল এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মোরাদাবাদে। অভিযুক্ত যুবকের নাম হার্দিক (Hardik)। নিহত তাঁর যমজ বোন হিমাশিখা (Himashikha)। গুরুতর জখম হয়েছেন মা নীলিমা (Neelima)।
হার্দিক ও হিমাশিখা—দু’জনেই ২৫ বছর বয়সি এবং পেশায় ইঞ্জিনিয়ার (Engineer)। গত কয়েক বছর ধরে তাঁরা হরিয়ানার গুরুগ্রামে (Gurugram) থাকতেন কর্মসূত্রে। হিমাশিখা এমবিএ (MBA) পড়ছিলেন কাজের বাইরে। অন্যদিকে, হার্দিক প্রায় দেড় বছর আগে একটি সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেন। তারপর থেকেই তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। যা লক্ষ্য করে পরিবারের সকলেও। অধিকাংশ সময়ই তিনি মোবাইল ফোন (Mobile Phone) নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ব্যস্ত থাকতেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত অনলাইনে চ্যাট করতেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই পুণের এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে হার্দিকের পরিচয় হয়েছিল। তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, এই বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই ছেলেকে সতর্ক করতেন মা নীলিমা এবং বোন হিমাশিখা। তাঁরা চাইতেন হার্দিক যেন নিজের কেরিয়ারের (Career) দিকে মন দেন। সেই নিয়েই ৬ মার্চ সন্ধ্যায় আবারও কথা কাটাকাটি শুরু হয় দুই ভাইবোনের মধ্যে। মুহূর্তেই তর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, রাগের মাথায় রান্নাঘর থেকে একটি সবজি কাটার ছুরি (Vegetable Knife) তুলে নেয় হার্দিক। তারপর বোনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একের পর এক কোপ মারতে শুরু করে। মৃত্যু হয় হিমশিখার। ময়নাতদন্তের (Post-mortem) রিপোর্টে জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরে মোট ৮৪টি ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এই ঘটনার পর হার্দিক তাঁর মায়ের কর্মস্থলে যান। নীলিমা একটি বীমা সংস্থার (Insurance Company) সহকারী ম্যানেজার (Assistant Manager) হিসেবে কাজ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি মাকে বলেন, “বাড়ি চলো, তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ (Surprise) আছে।”
বাড়িতে এসে মেয়ে হিমাশিখাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। তখনই তাঁর উপরও হামলা চালায় হার্দিক। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি স্থীতিশীল রয়েছেন।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হার্দিককে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, কেরিয়ার ও সম্পর্ক নিয়ে পরিবার বারবার পরামর্শ দেওয়ায় তাঁর মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই রাগের মাথায় বোনকে খুন করেন।