আদালত তার আদেশে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তবে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানল কমিশন
শেষ আপডেট: 10 September 2025 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) জানানো হয়েছে, এবার থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় আধার কার্ডকে প্রামাণ্য নথি হিসাবে ধরা হবে। কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১টি পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য থাকলেও আধারকে যোগ করে তা দাঁড়াল ১২টি।
যদিও কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আধারকে (Adhar Card) শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে এর কোনও বৈধতা নেই।
গত সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই নির্দেশ জারি হয়। আদালত তার আদেশে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তবে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটারদের জমা দেওয়া আধার কার্ডের সত্যতা যাচাই করার অধিকারী হবেন।
এই ইস্যুতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, আধার আইন (Aadhaar Act) অনুযায়ী, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তবে 'রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট' (Representation of People's Act)-এর ধারা ২৩(৪) অনুসারে, এটি একজন ব্যক্তির পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।
প্রসঙ্গত, বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, অভিযোগ জানানোর সময়সীমা বাড়ানো হোক। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যদি কোনও ভোটার নাম বাদ পড়া নিয়ে অভিযোগ জানান, নির্বাচন কমিশনকে সেই অভিযোগ শুনতে হবে।
এই মামলায় আরজেডির (Rashtriya Janata Dal) পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে বলেছিলেন, 'আধার কার্ড হল জনসংখ্যার কাছে সবচেয়ে সহজলভ্য নথি। যদি তারা এটি গ্রহণ না করতে পারে, তাহলে তারা কী ধরনের অন্তর্ভুক্তি অভিযান চালাচ্ছে? তারা দরিদ্রদের বাদ দিতে চাইছে।' এরপরই যাবতীয় সওয়াল জবাবের পর আধার কার্ড ব্যবহারের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।