এই ইস্যুতে একটি বিবৃতি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাতে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন - দুই কিলোমিটারের বেশি পথ যেন কোনও ভোটারকে পাড়ি দিতে না হয়।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 November 2025 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী নির্বাচনের আগে সারা দেশে পোলিং স্টেশনের (Polling Station) পুনর্বিন্যাসে জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভোটারদের সুবিধা বাড়ানো, স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নগর এলাকায় বাড়তে থাকা অস্বস্তি দূর করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
এই ইস্যুতে একটি বিবৃতি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। তাতে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন - দুই কিলোমিটারের বেশি পথ যেন কোনও ভোটারকে (Voters) পাড়ি দিতে না হয়। পোলিং স্টেশন (Polling Station) এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে বাসিন্দাদের নাগাল সবচেয়ে সহজ। তাছাড়া, যে এলাকায় ১,২০০-র বেশি ভোটার রয়েছে সেখানে প্রাইভেট রেসিডেন্স বা আবাসনে (Private Residence) ভোটকেন্দ্র করা যাবে কিনা, খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বলা হয়েছে, বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে রাজনৈতিক দলের অফিস থাকলেও সেখানে ভোটকেন্দ্র বসবে না। ভোটকেন্দ্রের ঘাটতি, ভিড় ও জনবিরূপতা রোধই প্রধান লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের (Private Complex) ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Ganesh Kumar) চিঠিও দেন তিনি। মমতার যুক্তি - ভোটকেন্দ্র সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি ভবনে স্থাপিত হওয়াই নিয়ম। এতে জনসাধারণের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। বেসরকারি প্রাঙ্গণ ব্যবহারে প্রশ্ন উঠতে পারে নিরপেক্ষতার। ‘সুবিধাভোগী’ বনাম ‘অসুবিধাভোগী’ - এই বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তারপরও ইসিআই (ECI) বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।
১,২০০ ভোটারের বেশি রয়েছে এমন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রকে (Polling Booth) ভেঙে নতুন করে দুই বা তার থেকে বেশি বুথ করা হবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে তৃণমূল। কমিশনের বক্তব্য ছিল এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই কালিয়াগঞ্জ উপনির্বাচনে ট্রায়াল বেসিস করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বিহার নির্বাচনেও তেমন ভাবেই বুথ করা হয়েছিল। এবার সেই ফর্মূলাই সারা দেশের জন্য করা হবে। এই মর্মে দেশের সব রাজ্যের সিইও-কে জানালো ইসিআই।
দেশজুড়ে বর্তমানে ১০.৪৪ লক্ষের বেশি পোলিং স্টেশন (Polling Station) আছে। তার মধ্যে অনেক শহুরে কেন্দ্রে পরপর ৪–৫টি বুথ একই চত্বরে থাকে, কোথাও পার্কিং নেই, কোথাও রাস্তা থেকে দূরে। এতে ভোটারদের অসুবিধা হয় এবং বাড়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে অনীহা। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
বিবৃতি বলা হয়েছে, বড় শহর, গ্রুপ হাউজিং সোসাইটি, পরিচিত উচ্চ-আবাসিক এলাকার জন্য নতুন করে সমীক্ষা (New Survey) চালাতে। যেখানে সুবিধাজনক ঘর পাওয়া যাবে, সেখানে সরানো হবে পোলিং স্টেশন (Polling Station)। বস্তি এলাকাতেও জনবসতি বেড়েছে, যেখানে প্রয়োজন, নতুন কেন্দ্র তৈরি হবে।
স্টেশন বদল বা তৈরি, সবই চলবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। ১,৫০০ ভোটারের বেশি হলে বুথ সরানো বা ভাগ করার সুপারিশ। রাজনৈতিক দলকে খসড়া তালিকা দেখাতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ, প্রথমে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সিইও-কে (West Bengal CEO) আলাদা চিঠি পাঠিয়ে কমিশন মনে করিয়েছে, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫–এর মধ্যে জেলা আধিকারিকদের কাজ শেষ করতে হবে। শহুরে এলাকায় বাড়তে থাকা ওভারগ্রোথ অঞ্চল চিহ্নিত করতে হবে।
কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট, যেখানে মানুষ থাকে, ভোটকেন্দ্রও সেখানে পৌঁছক। স্বচ্ছ, সুবিধাজনক, নিরাপদ ও ঝামেলাহীন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর এবং পদ্ধতিগত করে তুলছে নির্বাচন কমিশন।