এই তালিকায় নাম রয়েছে এ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনারও! এখানেই প্রশ্ন, বাংলায় যেখানে ভোট রয়েছে সেখানে এ রাজ্যেরই স্বরাষ্ট্রসচিবকে কীভাবে অবজার্ভার করে কমিশন?

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 January 2026 18:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে আসন্ন নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় অবজার্ভার (Central Observer) নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নজরদারির দায়িত্বে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মোট ২৫ জন সিনিয়র অফিসার রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস।
এই তালিকায় রয়েছেন হাওড়া পুলিশ কমিশনার (Howrah CP) এবং আসানসোলের কমিশনারও। পাশাপাশি, প্রশাসনিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আরেকটি নাম - পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা (Home Secretary JP Meena)। যে রাজ্যে ভোট হতে চলেছে, সেই রাজ্যেরই স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম কেন্দ্রীয় অবজার্ভার তালিকায় থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।

যদিও নির্বাচন কমিশনের (ECI) তরফে এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে (JP Meena) পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য অবজার্ভারের দায়িত্ব দেওয়া হবে, নাকি তাঁকে অন্য কোনও রাজ্যে পাঠানো হবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আপাতত ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। তবে সাধারণত নির্বাচনের সময়ে কোনও সেন্ট্রাল অবজার্ভারকে তাঁর নিজের রাজ্যে রাখা হয় না, পাঠানো হয় অন্য রাজ্যেই।

এই তালিকা ঘিরে কমিশনের ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় অবজার্ভার নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অন্তত পাঁচবার অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও উত্তর না মেলায় কমিশন নিজেই অবজার্ভারদের তালিকা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত নবান্ন এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে সূত্রের খবর, ইসিআইকে এই বিষয়ে পাল্টা চিঠি লিখতে চলেছে নবান্ন। এখন দেখার, সেই চিঠিতে নবান্ন কী লেখে এবং তার কী উত্তর দেয় নির্বাচন কমিশন।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই কমিশনের তরফে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ব্যাচভিত্তিক তালিকাভুক্ত সমস্ত আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্রিফিং বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। নির্ধারিত দিন, সময় এবং স্থানে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ব্রিফিং বৈঠকে কোনও আধিকারিকের অননুমোদিত অনুপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে নির্বাচন কমিশন। এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
এই নির্দেশ কার্যকর করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিস সার্ভ করার কথাও বলা হয়েছে। ই-মেল, সরাসরি যোগাযোগ বা অন্য যে কোনও উপলব্ধ মাধ্যম ব্যবহার করে নোটিস পৌঁছে দিতে হবে এবং তা অবশ্যই আধিকারিকের স্বীকৃতিসহ গ্রহণ করাতে হবে।
এছাড়াও, নোটিস সার্ভ করার পর প্রত্যেক অফিসারের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতিপত্র সংযুক্ত করে একটি লিখিত নিশ্চিতকরণ রিপোর্ট কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। সেই রিপোর্ট ই-মেলের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।
প্রসঙ্গত, এই ব্রিফিং বৈঠকের জন্য ব্যাচভিত্তিক ‘মিনিট-টু-মিনিট প্রোগ্রাম’ ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। অ্যানেক্সার–১, ২ এবং ৩-এ সংযুক্ত সেই কর্মসূচির বিস্তারিত সমস্ত সংশ্লিষ্ট আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।