কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বদলি করার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে (CS West Bengal) কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন।

জ্ঞানেশ কুমার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 January 2026 22:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR West Bengal) প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সঙ্গে নবান্নের টানাপড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বদলি করার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে (CS West Bengal) কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। সেই চিঠিতে রাজ্য সরকারের (West Bengal) ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ভোটের আগে ভোটার তালিকা (Voter List) সংশোধনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই ছিল কমিশনের মূল উদ্দেশ্য। সেই কারণেই আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এসআইআর চলাকালীন এই কাজে যুক্ত কোনও আধিকারিককে কমিশনের অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত অমান্য করা হয়েছে বলেই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের।
এসআইআর চলাকালীন বদলি নিষিদ্ধ
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এ জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন সংশ্লিষ্ট কোনও আধিকারিককে কমিশনের আগাম অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব ছিল রাজ্যের মুখ্যসচিবের উপর।
কমিশন জানিয়েছে, ২৮ নভেম্বর ২০২৫-এ ১২ জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার এবং ৫ জন ডিভিশনাল কমিশনারকে নিয়োগ করা হয়। এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বার্থে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘ডিমড ডেপুটেশন’-এ রয়েছেন। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করেছে। যা যুক্তিসঙ্গত নয়।
যাঁরা বদলির তালিকায় রয়েছেন তাঁরা হলেন—
কমিশনের বক্তব্য, এই তিনজনের বদলির ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি, যা ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন।
চিঠিতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, যে তিনজন আধিকারিককে বদলি করেছে নবান্ন, সেই বিজ্ঞপ্তি আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার দুপুর ৩টের মধ্যে বাতিল করতে হবে। শুধু বাতিল নয়, এই পদক্ষেপ করার পর, সেটা রিপোর্ট আকারে কমিশনকে জানাতেও হবে। কমিশন এও মনে করিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ যেন আগামীদিনে আর না করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের এই চিঠি ঘিরে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন নবান্নের (Nabanna) জবাবের অপেক্ষা।