
শেষ আপডেট: 11 April 2024 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চ-এপ্রিলের গরমে হিমশিম খেতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যকে। মে মাসেও গরমের দাপট নেহাত কম হবে না! এবার তো তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে খানিকটা স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। জুন মাস মানেই বর্ষার আগমনের সময়। তবে এবার গ্রীষ্ম আর বর্ষার সমীকরণটা বদলাতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লা নিনা আসছে। এর জেরে ভারতের বর্ষার মরশুম ওলটপালট হতে পারে।
লা নিনার প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব আফ্রিকা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। পূর্ব এশিয়া ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এবারের বর্ষাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে—এপ্রিল থেকে জুলাই এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। এল নিনোর প্রভাবে প্রথম অর্ধে তাপমাত্রা বাড়বে, আর লা নিনা চলে এলে দ্বিতীয় অর্ধে ঘোরতর দুর্যোগ তৈরি হবে।
দেশের মধ্যে কেরলে প্রথম পা রাখে বর্ষা। কেরলে বর্ষা আসার স্বাভাবিক সময় ১ জুন। ২০১৮ এবং ২০২২ সালে নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্ষা এসেছিল। ওই ২ বছরে বর্ষা ঢুকেছিল ২৯ মে। ২০১৯ এবং ২০২১ সালে নির্দিষ্ট সময়ের কয়েক দিন পর বর্ষা ঢুকেছিল দেশে। ২০১৯ সালে বর্ষা ঢুকেছিল ৮ জুন। ২০২০ সালে ১ জুন বর্ষা ঢুকেছিল দেশে। ২০২১ সালে ৩ জুন দেশে পা রেখেছিল বর্ষা। লা নিনা এলে এবার কি সময়ের আগেই বর্ষা ঢুকে পড়বে ভারতে? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সে সম্ভাবনাই প্রবল।
বর্ষার অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গও। এ রাজ্যে বর্ষা আসার স্বাভাবিক সময় ১০ জুন। তবে চলতি বছরে কবে বাংলায় পা রাখবে বর্ষা, তা এখনও জানায়নি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, কেরলে বর্ষা তাড়াতাড়ি এলেই যে বাংলাতেও তাড়াতাড়ি ঢুকবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
এল নিনোর ঠিক বিপরীত হল লা নিনা। 'লা নিনা'-এর সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা বায়ুর চারিত্রিক পরিবর্তন ঘটে। তখন উষ্ণ জলস্রোত প্রবাহিত হতে থাকে পশ্চিমের দিকে। 'লা নিনা' চলাকালীন সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে ঠান্ডা জল সমুদ্রের উপরিভাগে উঠে যায়। যার ফলে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা তখন স্বাভাবিকের থেকে ঠান্ডা হয়ে যায়। এল নিনো যেমন তীব্র তাপ্রবাহের কারণ, তেমনই লা নিনা ঠিক উল্টো। লা নিনা প্রভাব ফেলতে পারে বর্ষায়। এর প্রভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণে তারতম্য ঘটে। প্রবল বর্ষণ শুরু হতে পারে। স্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তেমনই কিছু ঘটতে চলেছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।