
শেষ আপডেট: 15 January 2024 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২২ জানুয়ারি দিনটিকে ঘিরে আলোড়িত হচ্ছে সারা দেশ। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে রামলালার। দিনটিকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই হইহই-রইরই ব্যাপার। বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নানা তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দিনটিকে উদযাপনের জন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক ভাবনা। এবং এই ভাবনায় কিছুটা স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়েছে সুরাপ্রেমীদের 'উল্লাস'। ২২ জানুয়ারি ইতিমধ্যেই পাঁচ রাজ্যে ঘোষিত হয়েছে 'ড্রাই ডে'।
উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, অসম, উত্তরাখণ্ড এবং ছত্তীসগড়, এই পাঁচ রাজ্য আপাতত অযোধ্যার রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন 'ড্রাই ডে' ঘোষণা করেছে। রাজ্য সরকারগুলির তরফে জানানো হয়েছে, মূলত সুরক্ষার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এটাও বলা হয়েছে, ভগবান রাম হিন্দুদের কাছে পরম পূজনীয়, আর ২২ তারিখ হিন্দুদের কাছে একটি অত্যন্ত বিশেষ দিন হতে চলেছে, তাই সেদিন কেউ 'বেসামাল' হোক, চাইছেন না ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। তবে এটা এখনও অজানা যে, প্রতি বছরই ২২ জানুয়ারি 'ড্রাই ডে' ঘোষণা করা হবে কিনা। এছাড়াও এই পাঁচ রাজ্য ছাড়া আরও কিছু রাজ্য ২২ তারিখ 'ড্রাই ডে' ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গুজরাট এবং বিহারে এমনিতেই মদ নিষিদ্ধ।
২২ জানুয়ারি শুধু রাম মন্দির উদ্বোধন নয়, অযোধ্যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের তরফে। একই সঙ্গে বিজেপির কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবেন এবং সাধারণ মানুষকে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন। ফলে রাম মন্দির নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা লোকসভা ভোট পর্ব ধরে চলবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদীও ২২ জানুয়ারির পর ভোট প্রচারে রাজ্য সফর শুরু করবেন।
কংগ্রেসের তরফে তো এই অনুষ্ঠানকে আরএসএস-বিজেপি ইভেন্ট বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের সাফ কথা, ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু আরএসএস এবং বিজেপি এই রাম মন্দির উদ্বোধনের বিষয়টিকে বহু আগে থেকেই রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ফেলেছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা তুলতে তারা রাম মন্দিরকে ব্যবহার করছে বলেই দাবি কংগ্রেসের। যদিও শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউতের বক্তব্য, যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাঁদের অবশ্যই রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন অযোধ্যা যাওয়া উচিত। বিজেপিকে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, রাম সকলের। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন।