
পুলিশের নতুন পোশাক
শেষ আপডেট: 11 April 2024 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখলে চেনা যাবে না। ভিড়ের মধ্যে মনে হবে কোনও সাধু-সন্ন্যাসিনী কিংবা ভক্ত। গলায় ঝুলছে রুদ্রাক্ষের মালা, কপালে ত্রিপুণ্ড্র বা ভস্ম-তিলক। পরনে গেরুয়া। কিন্তু, না। ওঁরা মন্দিরে পুজো দিতে আসা ভক্ত নন। বরং পুজো দিতে এসে কোনও বেগড়বাই করলেই খপাক করে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবেন সোজা শ্রীঘরে। কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরে এবার এই পোশাকেই দেখা মিলবে পুলিশ কর্মীদের।
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে চৈত্র মাসে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল নামে। বিশেষত আগামিকাল, শুক্রবার নীল পুজো উপলক্ষে গঙ্গার ধারার মতো ভক্তরা পুজো দিতে আসবেন মন্দিরে। এছাড়া সারাবছরই ভিড় লেগে থাকে এখানে। তাই এবার পুলিশ ভিতরে কর্তব্যরত কর্মীদের জন্য সাধুসন্তদের মতো পোশাকের ব্যবস্থা করেছে। যাতে আপাত চোখে তাঁদের দেখে মনে হবে না তাঁরা কে।
এর জন্য ডিউটিতে থাকা মহিলা ও পুরুষ পুলিশ কর্মীদের দেওয়া হচ্ছে গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। কপালে থাকবে তিন দাগ বিশিষ্ট ভস্মারতির তিলক। যা শৈব উপাসক মাত্রেই পরে থাকেন নিষ্ঠাভরে। পুলিশ কর্মীদের উর্দির জায়গায় পরতে হবে গেরুয়া পোশাক।
বিশ্বনাথ মন্দিরে প্রতিদিন ভক্তদের ভিড়ে ঠেলাঠেলি চলে। এর মধ্যে মহিলাদের সঙ্গে অভব্য ব্যবহারও হয়। এসব অভিযোগ পেয়ে নয়া পন্থা বের করেন পুলিশ আধিকারিকরা। বারাণসীর পুলিশ কমিশনার ঠিক করেন, মন্দিরের সুরক্ষায় সম্পূর্ণ অভিনব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশদের জন্য এই ছদ্মবেশের বুদ্ধি বের করা হয়।
কমিশনার মোহিত আগরওয়াল বলেন, পুণ্যার্থীরা এখানে সাধুদের কথা শোনেন। তাই এ ধরনের জায়গায় পুলিশরাও সাধুদের পোশাকে আত্মগোপন করে থাকবেন। পুলিশরাই লাইনে দাঁড়ানো ভক্তদের পাশে পাশে থাকবেন। তাঁদের ভিড় সামলাবেন। প্রয়োজনে প্রতারক, পকেটমার ও মেয়েদের উত্ত্যক্তকারীদের পাকড়াও করবেন। শুধু পুরুষ নয়, এর জন্য প্রমীলা বাহিনীও সাধ্বীর পোশাকে মন্দিরের ভিতরে থাকবে।
ছদ্মবেশ ছাড়াও উর্দিধারী পুলিশও থাকবে মন্দিরে। তাঁরা ভিড় সামলাতে সাহায্য করবেন। মন্দিরে ভিআইপি কেউ এলে পুলিশ ভক্তদের দাঁড় করিয়ে রাখে অথবা ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এতে দূর থেকে ভক্তদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এবার নয়া `নো টাচ` পলিসি নেওয়া হচ্ছে। যাতে ভক্তদের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এবার থেকে যে পুলিশকর্মীদের মন্দিরে ডিউটিতে পাঠানো হবে, তাঁদের তিনদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কথাবার্তায় নরম, ভদ্র, হিন্দি ছাড়াও আরও দুএকটি ভাষায় কথা বলতে পারা কর্মী বাছাই করা হয়েছে। যাতে তাঁরা ভিনরাজ্যের ভক্তদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।