ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই হয়েছিল। ওই গোটা ঘটনার সঙ্গে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য বা আমেরিকার মধ্যস্ততার মতো বিষয় ছিল না।

শেষ আপডেট: 18 June 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১০ মে থেকে কখনও সমাজমাধ্যমে কখনও বা সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump) বার বার দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্ততা করেছিল ওয়াশিংটন। আমেরিকাই সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিবদমান দুই রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, ট্রাম্পের আগ্রহেই তাঁর সঙ্গে আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীর ৩৫ মিনিট ফোনে কথা হয় (Trump Modi telephonic conversation) । সেই ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই হয়েছিল। ওই গোটা ঘটনাক্রমের সঙ্গে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য বা আমেরিকার মধ্যস্ততার মতো বিষয় ছিল না।
"The India-Pakistan ceasefire was done on Pakistan's request, America had no role in it, India-America trade deal wasn't a condition" - PM Modi to President Trump on phone call .
Just wow 👏🏻👏🏻 pic.twitter.com/2wgXNui2IP— Mr Sinha (@MrSinha_) June 18, 2025
জি-৭ রাষ্ট্রগোষ্ঠীর বৈঠকে যোগ দিতে ট্রাম্প ও মোদী দুজনেই গিয়েছিলেন কানাডা। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী পৌঁছনোর আগেই জরুরি কারণে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ফিরে যান। জি-৭ রাষ্ট্রগোষ্ঠীর বৈঠক শেষে এবার প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার উদ্দেশে। তার ঠিক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়।
বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রির বিবৃতি অনুযায়ী, এই আলোচনায় মূলত উঠে আসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ। মোদী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিস্তারিত জানান ভারতের এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিণামের কথা।
বিদেশসচিব স্পষ্ট করে বলেন, “এই ফোনালাপে কোনও বাণিজ্যিক আলোচনা হয়নি। শুধু ভারতীয় অভিযানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েই কথা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও একবার জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট— কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ভারত মেনে নেয় না, ভবিষ্যতেও নেবে না”।
বিদেশ সচিব এও জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পকে এও জানিয়েছেন, গত ৯ মে রাতে মার্কিন উপ রাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স তাঁকে ফোন করেছিলেন, ভান্স তাঁকে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান বড় হামলা করতে পারে। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তাহলে ভারত আরও বড় জবাব দিতে প্রস্তুত।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই কথোপকথনে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারত এখন থেকে কোনও জঙ্গি হামলাকে ‘প্রক্সি অ্যাকশন’ বা পরোক্ষ যুদ্ধ হিসেবে দেখবে না— বরং তা সরাসরি যুদ্ধ হিসেবেই গণ্য করবে এবং তার জবাবও সেই ভাবেই দেবে।
বিক্রম জানিয়েছেন, ফোনালাপে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমেরিকায় তাঁর চলতি সফরের সময় সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান। তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির জন্য প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারেননি। যদিও দুই নেতা একমত হয়েছেন, ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে তাঁরা সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন।
এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হল, যখন ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে এবং পাশ্চাত্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে তুলছে। মোদি-ট্রাম্প কথোপকথন সেই larger diplomatic narrative-এরই অংশ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।