
সতীশের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে যৌন নির্যাতন করে খুন করা হয়েছিল।
শেষ আপডেট: 20 March 2025 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যু নিয়ে ফের রাজনৈতিক ঢেউ আছড়ে পড়ল মুম্বইয়ের আরব সাগরে। প্রয়াত সেলিব্রিটি ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের বাবা সতীশ সালিয়ান বৃহস্পতিবার মেয়ের মৃত্যুর পাঁচবছর পর বোম্বে হাইকোর্টে ফের এই ঘটনার তদন্ত শুরু আবেদন জানিয়েছেন। সে আবেদনে উদ্ধব ঠাকরের বিধায়ক-পুত্র আদিত্য ঠাকরের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর দাবি জানিয়েছেন সতীশ। বোম্বে হাইকোর্টে করা আবেদনে তিনি বলেছেন, উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের বিরুদ্ধে যেন আদালত এফআইআর করার নির্দেশ দেয়।
তিনি আরও জানান, আদালত যেন এই তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। যাতে দিশার মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বইয়ের মালাড এলাকার একটি বহুতল আবাসনের ১৫ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দিশা সালিয়ানের। মুম্বই পুলিশ সেই ঘটনার তদন্তে দুর্ঘটনাজনিত কারণ দেখিয়ে মামলা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু, পুলিশের মতে দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে রাজি নন দিশার বাবা সতীশ।
আবেদনে সতীশের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে যৌন নির্যাতন করে খুন করা হয়েছিল। এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা সেই ঘটনা তখনকার মতো ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। পাঁচবছর পর মহারাষ্ট্র বাজেট অধিবেশন চলাকালীন উদ্ধব-পুত্র আদিত্যকে নিশানা করে অভিযোগ ওঠায় রাজ্য রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আদিত্য ঠাকরের স্পষ্ট জবাব, এসব তাঁকে কলুষিত করার চেষ্টা। তিনি আদালতেই এর জবাব দেবেন।
প্রসঙ্গত, দিশার মৃত্যুর ঠিক ৬ দিন পর অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতকে তাঁর বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ আত্মহত্যা বললেও পরে আদালতের নির্দেশে তদন্ত সিবিআইকে হস্তান্তরিত করে। সেই সময় দিশার বাবা বিশেষ কোনও অভিযোগ না করে পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান আবেদনে সতীশ জানিয়েছেন, ৮ জুন দিশা বাড়িতে একটি পার্টি দিয়েছিলেন। সেখানে হাজির ছিলেন আদিত্য ঠাকরে। তাঁর সঙ্গে ছিল দেহরক্ষীরাও। অভিনেতা সুরজ পাঞ্চোলি এবং দিনো মোরিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীর দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বাবার অভিযোগ, দিশাকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল, নির্মম যৌন অত্যাচার করা হয়েছিল। ১৫ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হলেও দিশার শরীরের একটি হাড়ও ভাঙেনি ও ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ মেলেনি। তাঁর আরও দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট রাজনৈতিক চাপে বদলে দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এমনকী সিসিটিভি ফুটেজও বিকৃত করে দেওয়া হয়। এসবেই প্রমাণ হয়, পুলিশ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ৫০ ঘণ্টা বাদে দিশার ময়নাতদন্ত করে যৌন নির্যাতনের ঘটনা চাপা দিতে চেয়েছিল। কারণ এই যৌন নির্যাতনের পুলিশ 'মূল অভিযুক্ত আদিত্য ঠাকরে'কে বাঁচাতে পুরোদমে নেমে পড়েছিল।
এই অভিযোগের পরেই শাসক জোট মহায়ুতি এবং উদ্ধব সেনার মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। আদিত্য ঠাকরে অভিযোগ নিয়ে হাত ধুয়ে ফেলে জানিয়ে দিয়েছেন, এসব তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য হচ্ছে। যদি আদালতেই ওঠে, তাহলে কাঠগড়াতেই এর জবাব দেব। উদ্ধব ঠাকরের ঘনিষ্ঠ এমপি সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ আচমকা ৫ বছর পর এই আবেদন এল কেন, এর পিছনে কী রাজনীতি রয়েছে। আসলে বিজেপি ঔরঙ্গজব ইস্যু নিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে বিজেপি নয়া চাল চালছে, বলেন রাউত।