Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

৩৭০ নিয়ে অবস্থান বদল কংগ্রেসের, ২০১৯ আর '২৩-এর প্রতিক্রিয়ায় মিল নেই

শতাব্দী প্রাচীন দলটির আরও বক্তব্য, তারা আশা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট লাদাখকে আলাদা করার সিদ্ধান্তের সিলমোহর দেবে না।

৩৭০ নিয়ে অবস্থান বদল কংগ্রেসের, ২০১৯ আর '২৩-এর প্রতিক্রিয়ায় মিল নেই

শেষ আপডেট: 12 December 2023 07:46

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তার অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে নিয়েছে। ২০১৯-এ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময় কংগ্রেস নেতৃত্ব যে কথা বলেছিল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তার পুনরাবৃত্তি করেনি দল। 

শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে কংগ্রেস বলেছে যেভাবে সংবিধানের বিশেষ মর্যাদার ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করা হয়েছিল তা সঠিক ছিল না। অর্থাৎ দল এখন শুধু পদ্ধতিগত আপত্তি নিয়ে সরব। কংগ্রেস দাবি করেছে, অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীরে ভোট হোক। 

শতাব্দী প্রাচীন দলটির আরও বক্তব্য, তারা আশা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট লাদাখকে আলাদা করার সিদ্ধান্তের সিলমোহর দেবে না।

সোমবার শীর্ষ আদালতে রায়ের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারে বারেই বিরোধীদের খোঁচা দিয়েছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার কংগ্রেস বেঞ্চের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আপনারা অবস্থান স্পষ্ট করুন। শীর্ষ আদালতের রায়ের সঙ্গে সহমত কিনা বলুন। 

কাশ্মীর বিজেপির কোর বিষয়গুলির অন্যতম। স্বভাবতই এই ইস্যুতে শীর্ষ আদালত সরকারি সিদ্ধান্তে সায় দেওয়ায় শাসক দল অত্যন্ত খুশি। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাম মন্দিরের পাশাপাশি কাশ্মীরও শাসক দলের জন্য বড় অস্ত্র হতে যাচ্ছে। 

দেখা যাচ্ছে পদ্ম শিবিরের আক্রমণের মুখে কংগ্রেস বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই ব্যাপারে দলের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম এবং দলের আইনজীবী সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি। চিদম্বরম বলেন, আমরা মনে করি শীর্ষ আদালতের রায়ের গভীরে পর্যবেক্ষণ জরুরি। এই রায়কে সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, যে পদ্ধতিতে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল তা সঠিক ছিল না। আদালত এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে বিবেচনা করলে ভাল হতো।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষে এই দুই নেতার বক্তব্য, ২০১৯ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে মেলে না। তখন কংগ্রেস দুটি বিষয়ে আপত্তি তুলেছিল। তারা ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারেরই বিরোধিতা করে।

কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল,  সংবিধান সভায় বিতর্কের পর কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্তির শর্ত হিসেবে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হঠাৎ করেই সেই অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করে নেওয়া যায় না। 

কংগ্রেসের দ্বিতীয় বক্তব্য ছিল যেভাবে রাজ্য বিধানসভাকে পাশ কাটিয়ে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়েছে তাও সঠিক নয়।

কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০১৯-এর ৫ অগাস্ট সংসদে বিল এনে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করে নেন। এর আগের দিন জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ'র শ্রীনগরের গুপকার রোডের বাড়িতে উপত্যকার আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে কংগ্রেসও উপস্থিত ছিল। সেখানে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে প্রস্তাব নেওয়া হয়। ততদিনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল কেন্দ্র ওই রাজ্য নিয়ে চরম পদক্ষেপ করতে চলেছে। বৈঠকের বক্তব্য সেদিন গুপকর ঘোষণা হিসাবে প্রকাশ করা হয়। পরদিন বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর রাজ্যের প্রাক্তন তিন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ, তাঁর ছেলে ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করে প্রশাসন। 

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে গুপকর ঘোষণার মিল নেই। হাত শিবির স্পষ্ট করে দিয়েছে, ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অর্থাৎ বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে তাদের জোরালো আপত্তি নেই। তারা প্রত্যাহারের পদ্ধতি সমর্থন করে না। সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাহারের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের পদক্ষেপে সায় দেওয়ায় প্রধান বিরোধী দল আপত্তি তুলেছে। 

প্রশ্ন হল, কাশ্মীর নিয়ে কেন সুর বদল করল হাত শিবির। রাজনৈতিক মহল মনে করছে,  বিজেপি এই ইস্যুতে লোকসভার ভোটে হিন্দুত্বের আগ্রাসী আক্রমণ শানাবে বুঝতে পেরেই হাত শিবির সুর নরম করছে। তাছাড়া দল মনে করছে, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে সহমর্মিতা কম। বিজেপির জন্ম থেকে বিগত ৪৬ বছরের প্রচারে দেশে ৩৭০ বিরোধী জনমত তৈরি হয়েছে। কাশ্মীরের আঞ্চলিক দলগুলি বাদে অন্য কোনও পার্টি এই ব্যাপারে বিজেপির বক্তব্য খন্ডন করতে পাল্টা প্রচারে যায়নি। এই বাস্তবতার মুখে অবস্থান বদল করল শতাব্দী প্রাচীন দলটি।


```