
কুম্ভমেলা
শেষ আপডেট: 26 February 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেলা (Kumbh) বসে দেশের ৪ শহরে, প্রতি ৩ বছর অন্তর। ব্যবধান বেড়ে ১২ বছরে দাঁড়ালে জুড়ে যাবে উপসর্গ ‘মহা’ (Maha Kumbh)। আর সেটাই গিয়ে ১৪৪ বছর হওয়া মানে ‘মহা'-র আগে বসবে ‘অমৃত’ (Amrita Maha Kumbh)।
২০২৫ হল সেই ক্ষণ, যখন তিথিনক্ষত্রের যোগে প্রয়াগরাজের ত্রিবেণীসঙ্গমে বসেছিল কুম্ভমেলার আসর। ১৩ জানুয়ারি ছিল মেলাশুরুর দিন। আজ, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ৪৫ দিন পেরিয়ে শিবরাত্রির আবহে সাঙ্গ হচ্ছে দুনিয়ার বৃহত্তম ধর্মীয় সমাগম।
ইতিবাচক, নেতিবাচক, চমকপ্রদ, হঠকারী, হুজুগে, অহেতুক, অযৌক্তিক, ভক্তিপ্রদ—দেশের বিভিন্ন মহল থেকে উড়ে এসেছে বাছা বাছা বিশেষণ। কেউ এই ব্যবস্থাপনার সমালোচনায় মুখর, কেউ সমাদর জানিয়েছেন। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র আত্মার গভীরে ‘শাশ্বত ভারতে’র প্রবাহ যে ফল্গুধারার মতো চিরকাল প্রবহমান রইবে—এই সত্যের অকাট্য দৃষ্টান্তস্থল হিসেবে অমৃতমহাকুম্ভকে সামনে টেনে এনেছেন অনেকে। আর এই পক্ষে-বিপক্ষে মতাদর্শের সংঘাতেই ‘দৃশ্যের জন্ম’ হয়েছে৷
রাজনৈতিক মিলনমেলা
৫ ফেব্রুয়ারি। সঙ্গমস্থলে এসে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গায়ে গেরুয়া জ্যাকেট। পরনে নীল ট্র্যাক প্যান্ট। হাতে রুদ্রাক্ষের মালা জড়ানো৷ খানিকক্ষণের নৌবিহার। তারপর জলে ডুব। মাথা তুলে মোদী জানালেন সুখানুভূতির কথা—তাঁর বয়ানে: ‘অতীন্দ্রিয় সংযোগের মুহূর্ত’, ‘কোটি কোটি মানুষের মতোই ভক্তির শক্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলাম’।
যদিও প্রধানমন্ত্রী একা নন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। পবিত্র তীর্থের জলে স্নান করেছেন বহু হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব। এমন রাজনৈতিক মিলনমেলা আকছার তেমন চোখে পড়ে কি?
পিছুপিছু বলিউড
রাজনীতি মানে তার পায়ে পায়ে বলিউড আসবে এটাই স্বাভাবিক। খ্যাতির অস্তাচলে যাওয়া বি-টাউনের সেলেব থেকে উদীয়মান নক্ষত্র। সঙ্গমস্থলের আনাচে-কানাচে নানান তারকার ভক্তিবিনম্র অর্ঘ্য নিবেদনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। প্রীতি জিন্টা থেকে ভিকি কৌশল, ক্যাটরিনা কাইফ থেকে রাজকুমার রাও, তামান্না ভাটিয়া থেকে পুনম পান্ডে। বিভিন্ন স্তরের সেলেব্রিটির সমাবেশে সেজে উঠেছিল এবারের কুম্ভ।
কুম্ভ এবার গ্লোবাল
শুধু বলিউড নয়। গ্লোবাল দুনিয়াকেও কাছে টেনেছে ত্রিবেণী সঙ্গম। বান্ধবী ডাকোটা জনসনকে পাশে নিয়ে মেলায় পা বাড়িয়েছেন কোল্ডপ্লে-র ক্রিস মার্টিন। স্টিভ জোবসের স্ত্রী লোরিন পাওয়েলকেও মেলার প্রথম দিন গেরুয়া বসনে কুম্ভ চত্বরে দেখা যায়। যদিও পর দিনই অ্যালার্জি সংক্রমণ। আর তার জেরে বাতিল পবিত্র অবগাহনের পরিকল্পনা!
ডিজিটাল কুম্ভ
‘ডিজিটাল ফোটো স্নান’। কোনওভাবেই বুজরুকি লব্জ, প্রবঞ্চকদের কথার কথা নয়। একে কাজে করিয়ে ক্ষান্ত হয়েছে একাধিক স্টার্ট আপ সংস্থা। ফেল কড়ি, করো স্নান—হিসেব একদম সহজ। কারও দর হাজার টাকা, কেউ কমসম করে ৫০০-তেও রাজি! টাকা দিলেই মিলবে ঘরে বসে কুম্ভস্নানের সুযোগ! হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠালেই সংস্থার পক্ষ থেকে মোবাইল চুবিয়ে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির স্নান সারা কমপ্লিট!
বাবাদের জয়জয়কার
কুম্ভে এবার ‘বাবা'-দের জয়জয়কার৷ তবে শিরোমণি একজনই: আইআইটি-খ্যাত অভয় সিং ওরফে ‘আইআইটি বাবা’। প্রচুর টাকার চাকরি ছেড়ে যিনি মোক্ষের খোঁজে আস্তানা গেড়েছিলেন কুম্ভে এসে। তারপর তো ত্রিবেণী দিয়ে গড়িয়েছে অনেক জল৷ পরিবারের নাগাল এড়াতে এদিক-সেদিক ছুটে বেড়ানো, অন্যান্য সাধুদের সঙ্গে বিবাদে জড়ানো, আখড়া ত্যাগ, সাম্প্রতিকতম সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে ভুলভাল পূর্বাভাস এবং পরে পালটি মারা—অভয় সিং মানেই অবিরত সংবাদ শিরোনাম!
পাশাপাশি ঠাঁই করে নিয়েছেন অমরজিৎ বাবা ওরফে ‘আনাজওয়ালা বাবা’, যিনি কথার ছলে মাথায় গম, জোয়ার, বাজরা, মটর গজাতে পারেন। পরিবেশ সচেতনতার মূর্তিমান দৃষ্টান্তই হোক তাঁর ‘শেষ পরিচয়'—আর্জি অমরজিতের।
‘ছোটু বাবা’, যিনি ৩২ বছর শ্বাস না নিয়ে বেঁচে থাকার দাবি জানিয়েছেন, ‘কাঁটেওয়ালা বাবা’, যিনি আক্ষরিক অর্থে কাঁটাতেই শয্যা পেতেছেন—কুম্ভের হেডলাইনে আর সবাইকে পিছনে ঠেলে এবার বাবাদেরই রমরমা!