পরিকাঠামোগত খামতি এতটাই মারাত্মক ছিল যে, জেনারেটর থাকলেও তা চালু করা যায়নি। কারণ তাতে ডিজেলই ছিল না ।

শেষ আপডেট: 15 June 2025 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলা হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনার জেরে প্রাণ গেল এক তরুণের। কিডনির সমস্যা থাকায় নিয়মিত ডায়ালিসিস চলত তাঁর। ডায়ালিসিস চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং জেনারেটর চালু না হওয়ায় সেখানেই মৃত্যু হয় ওই তরুণের। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলায়।
প্রয়াত রোগীর নাম শরফরাজ আহমেদ (২৬)। বাড়ি বিজনৌরের ফুলসন্ডা গ্রামে। তিনি নিয়মিত ডায়ালিসিস করাচ্ছিলেন ওই হাসপাতালে। শুক্রবার, হাসপাতালের নির্ধারিত শিফটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আচমকাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ।
পরিকাঠামোগত খামতি এতটাই মারাত্মক ছিল যে, জেনারেটর থাকলেও তা চালু করা যায়নি। কারণ তাতে ডিজেলই ছিল না ।
শরফরাজের মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘যখন ইলেকট্রিসিটি চলে গেল, ও ডায়ালিসিসের মাঝপথে। রক্ত ওই যন্ত্রের মধ্যে আটকে গেল। আমি ওখানে কর্মীদের অনুরোধ করলাম জেনারেটর চালাতে, কিন্তু কেউ কোনও পদক্ষেপই নিল না। চোখের সামনে আমার ছেলে মারা গেল।’
এই সময় ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন আরও পাঁচজন ডায়ালিসিস রোগী, তাঁরা সবাই চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সম্পূর্ণ অন্ধকারে গরমের মধ্যে কোনওরকম ভেন্টিলেশন ছাড়াই পড়ে ছিলেন।
ঘটনার সময় হাসপাতালে পরিদর্শন করছিলেন জেলার চিফ ডেভেলপমেন্ট অফিসার পূর্ণ বোড়া। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হাসপাতালে যান জেলা শাসক জসজিত কৌরও। হাসপাতাল ঘুরে দেখে তিনি বলেন, ‘ডায়ালিসিস ইউনিটে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি ও পরিকাঠামোর চরম অভাব রয়েছে। যে বেসরকারি সংস্থা ইউনিট চালাচ্ছে, তাদের গাফিলতির ফলেই এই মৃত্যু। সমস্ত নথি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে এবং ওদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।’
জেলা হাসপাতালের ডায়ালিসিস ইউনিট ২০২০ সাল থেকে পরিচালনা করছে ‘সঞ্জীবনী’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা, একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলের অধীনে।
হাসপাতাল সূত্রে অভিযোগ, সংস্থাকে একাধিকবার ডিজেল সরবরাহের জন্য সতর্ক করা হলেও তারা তা অবহেলা করে গিয়েছে। তারই পরিণতিতে এই মর্মান্তিক মৃত্যু।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ডায়ালিসিস চলাকালীন ২০০–২৫০ মিলিলিটার রক্ত মেশিনে ঘোরাফেরা করে। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রক্ত আটকে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও, হঠাৎ যন্ত্র থেমে যাওয়া একজন গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে বিপজ্জনক জটিলতা তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বহু সময়েই প্রাণঘাতী হতে পারে।
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। স্থানীয় স্তরে একাধিক জনস্বাস্থ্য কর্মী, চিকিৎসক ও সমাজকর্মী এই ঘটনাকে 'হাসপাতাল ব্যবস্থার চরম লজ্জাজনক ব্যর্থতা' বলে চিহ্নিত করেছেন।
জেলার স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটা প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে নজরদারি কতটা জরুরি।’