শুক্রবার প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল-সহ ভিভিআইপি যাত্রী বহনকারী বিমানের ক্ষেত্রে ফ্লাইট ক্রুদের এমন কোনও পরিস্থিতিতে ফেলা যাবে না, যাতে উড়ানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে (VVIP flight safety rules)।

ভিভিআইপি উড়ানে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়
শেষ আপডেট: 28 March 2026 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিভিআইপি এবং ভিআইপি উড়ানে নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনও আপস নয়, এই বার্তা স্পষ্ট করে নতুন নির্দেশিকা জারি করল বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (DGCA)। বিশেষ করে পাইলটদের ওপর কোনও ধরনের ‘অযৌক্তিক চাপ’ তৈরি করা যাবে না (pilot pressure aviation India), এই বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন নিয়মে (DGCA issues VVIP flight safety guidelines)।
শুক্রবার প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল-সহ ভিভিআইপি যাত্রী বহনকারী বিমানের ক্ষেত্রে ফ্লাইট ক্রুদের এমন কোনও পরিস্থিতিতে ফেলা যাবে না, যাতে উড়ানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে (VVIP flight safety rules)।
এই নির্দেশ মূলত নন-শিডিউউলড বিমান এবং হেলিকপ্টার অপারেটরদের জন্য প্রযোজ্য, যারা ভিভিআইপি যাত্রী বহন করে থাকে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পরই এই নির্দেশিকা জারি করা হল। সেই দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছিল ভিভিআইপি উড়ানের নিরাপত্তা নিয়ে।
কী বলছে ডিজিসিএ-এর নতুন নির্দেশিকা?
ডিজিসিএ-র নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিমানের অপারেটরদের নিশ্চিত করতে হবে যে সমস্ত ফ্লাইট ‘এয়ারক্রাফ্ট রুলস’ এবং সময় সময়ে জারি হওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। কোনও পরিস্থিতিতেই পাইলট বা ক্রুদের এমন চাপ দেওয়া যাবে না, যাতে তারা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিভিআইপি যাত্রীর চাহিদা মেনে যদি শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়, তা হলে সেই যোগাযোগ সরাসরি ক্রুদের সঙ্গে নয়, সংস্থার ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে করতে হবে।
ডিজিসিএ আরও জানাচ্ছে, অতীতে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অস্থায়ী হেলিপ্যাড বা এয়ারস্ট্রিপ থেকে উড়ান, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের সময় ভিভিআইপি উড়ানে, বহু ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গ হয়েছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেই মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নির্বাচনী উড়ানের ক্ষেত্রে প্রতিটি অপারেটরকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে, যিনি পুরো প্রক্রিয়ার দেখভাল করবেন এবং সমস্ত নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করবেন।
এই আধিকারিককে ডিজিসিএ (DGCA), এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI), ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (BCAS) এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। সেই সঙ্গে, উড়ান শুরুর আগে তাঁর সমস্ত তথ্য ডিজিসিএ-র ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ডস ডিরেক্টরেটে জমা দিতে হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ভিভিআইপি যাত্রী বহনকারী নন-শিডিউলড বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের ন্যূনতম ৩,০০০ ঘণ্টার উড়ানের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা হতে হবে অন্তত ২,০০০ ঘণ্টা।
ডিজিসিএ-র মতে, নির্বাচনী উড়ান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। দীর্ঘ সময় ধরে উড়ান, ঘন ঘন টেক-অফ ও ল্যান্ডিং, তড়িঘড়ি তৈরি হেলিপ্যাড, বারবার রুট পরিবর্তন এবং উচ্চ নিরাপত্তা চাপ - সব মিলিয়ে পাইলটদের জন্য তা এক কঠিন পরীক্ষা।
এছাড়া, বিমানের অপারেটরের ‘অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজার’-কে ভিভিআইপি যাত্রীদের স্পষ্ট জানাতে হবে যে, ফ্লাইট ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ইঞ্জিনিয়ার এবং উড়ান পরিকল্পনায় যুক্ত অন্যান্য পেশাদারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।
উড়ান চালিয়ে যাওয়া, অন্যত্র ঘোরানো বা মাঝপথে বাতিল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মত থাকবে পাইলটদের এবং সেই সিদ্ধান্তে কোনও ধরনের বাইরের চাপ বা প্রভাব থাকা চলবে না।
সবশেষে, আবহাওয়ার ন্যূনতম মানদণ্ড মেনে চলা এবং উড়ান শুরুর আগে সঠিক আবহাওয়ার তথ্য যাচাই করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই নির্দেশিকায়।
সব মিলিয়ে, ভিভিআইপি উড়ানকে আরও সুরক্ষিত করতে এবার কড়া বার্তা দিল ডিজিসিএ - নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস নয়, এবং পাইলটদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।