
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 31 March 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন অবসর নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঢিল কা বদলা পাটকেলে দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সঞ্জয় রাউতের দাবি নস্যাৎ করে সোমবার মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গড়ার অন্যতম কারিগর ফড়নবিশ জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটেও মোদী দলকে নেতৃত্ব দেবেন। নেতা বদলের কোনও ভাবনাচিন্তা নেই দলে।
মোদীকে দলের পিতৃতুল্য বলে ফড়নবিশ আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতিতে যতদিন বাবা বেঁচে থাকেন, ততদিন উত্তরাধিকার তৈরির আলোচনাই ওঠে না। এসব মুঘল সংস্কৃতিতে থাকতে পারে। তাই এখনই এসব নিয়ে কথার কোনও মানে নেই। মুম্বইয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, আগামীদিনেও মোদীই দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাবেন। আমরা ২০২৯ সালেও মোদীকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তাঁর উত্তরাধিকার খোঁজার কোনও প্রয়োজন নেই, তিনিই আমাদের নেতা আছেন, থাকবেন।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবসর নিতে চলেছেন বলে সোমবার প্রথমে বোমা ফাটান উদ্ধব ঠাকরে পন্থী শিবসেনা নেতা তথা এমপি সঞ্জয় রাউত। বিতর্কিত মন্তব্যে দুরস্ত রাউত এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, রবিবার মহারাষ্ট্রের নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সদর দফতরে মোদী এসেছিলেন সেপ্টেম্বরে তাঁর অবসরের কথা ঘোষণা করতে। উদ্ধবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সেনা নেতার আরও দাবি, দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন মহারাষ্ট্র থেকে।
মুম্বইয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রাউত বলেন, আরএসএসের অফিসে প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন তাঁর অবসরের কথা জানাতে। আমার কাছে যত দূর খবর আছে, আমিটা যতটা জানি, ১০-১১ বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী কখনও আরএসএস সদর দফতরে আসেননি। আসলে সঙ্ঘ চাইছে, বিজেপি নেতৃত্বে বদল আনতে। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাই এখন ছেড়ে যাচ্ছেন।
সঞ্জয় রাউতের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তরসুরী কে হবেন, তা ঠিক করবে আরএসএসই। এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন মহারাষ্ট্র থেকে। সে কারণেই মোদীকে নাগপুরে সঙ্ঘের কার্যালয়ে বন্ধ দরজা বৈঠকে ডেকে আলোচনা করা হয়েছে।
শুধু সঞ্জয় রাউতই একা নন, কংগ্রেসের এক নেতাও তাঁর কথায় সায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি সঞ্জয় রাউতের কথায় একমত। আমার মনে হয়, তিনি ঠিক বলছেন। বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৭৫ বছর বয়স হলেই তাঁকে অবসর নিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীরও বয়স হয়ে গিয়েছে। তাই ওরাও নিশ্চই তাঁর অবসরের কথা চিন্তাভাবনা করছে। তাঁকেও সঙ্ঘের সন্তুষ্টি মেনে চলতে হয়। বলেন, কংগ্রেস নেতা হুসেইন ডালোয়াই।