১০ জুলাই বিকেলে বমি, খাবার খেতে না পারা, শরীরে জল কমে যাওয়া, ডিহাইড্রেশনের উপসর্গ নিয়ে শিবাংশকে প্রথমে চামোলির গ্বালদামের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (PHC) নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 August 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র এক বছরের শিশুকে নিয়ে ছুটে চলেছে পরিবার, এক হাসপাতাল থেকে আরেক। চার জেলায় পাঁচটি হাসপাতালে ঘুরেও শেষরক্ষা হল না। ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত ছোট্ট শিবাংশ জোশীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে উত্তাল উত্তরাখণ্ড।
অভিযোগ উঠেছে, জরুরি পরিস্থিতিতে একের পর এক হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়নি, অবহেলা আর উদাসীনতায় খর্ব হয়েছে সময়, যার জেরে মৃত্যু হয় একরত্তির। শিবাংশের বাবা দিনেশ চন্দ্র জোশী একজন সেনা অফিসার। ওই সময় তিনি কর্মরত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরে। মা একাই ছেলেকে নিয়ে ছুটছিলেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে।
১০ জুলাই বিকেলে বমি, খাবার খেতে না পারা, শরীরে জল কমে যাওয়া, ডিহাইড্রেশনের উপসর্গ নিয়ে শিবাংশকে প্রথমে চামোলির গ্বালদামের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (PHC) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রথম ধাক্কা, পেডিয়াট্রিশিয়ান বা শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় কোনও চিকিৎসা সুবিধা ছিল না।
সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় বাগেশ্বর জেলার বৈজনাথের কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (CHC), ২২ কিমি দূরে। সেখানেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর আবার ২০ কিমি দূরের বাগেশ্বর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানা যায়।
বাচ্চাটির বাবার অভিযোগ, জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোবাইলে ব্যস্ত ছিলেন, নার্সরা হাসি-ঠাট্টায় মত্ত। কেউই শিশুটিকে গুরুত্ব দেননি। 'জরুরি অবস্থা সত্ত্বেও চিকিৎসক ছেলেকে ভাল করে দেখেননি। বিন্দুমাত্র সহানুভূতিও ছিল না। শেষপর্যন্ত আরও বড় হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেন,' বলেন দিনেশ জোশী।
শিশুটির মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল বলে চিকিৎসকরা জানান। তবে শিশুদের জন্য কোনও আইসিইউ না থাকায়, তাকে আবার রেফার করে পাঠানো হয় আলমোড়া মেডিক্যাল কলেজে। এদিকে, শিশুটির মায়ের অভিযোগ, সন্ধে ৭টায় ১০৮ নম্বরে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে পাওয়া যায়নি। দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও গাড়ি আসেনি। শেষে জেলাশাসককে ফোন করে ব্যবস্থা করতে হয়।
রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আলমোড়ায় পৌঁছয় শিবাংশ। সেখানেও চিকিৎসার পর ফের রেফার করা হয় নৈনিতালের হলদ্বানির হাসপাতালে। ১২ জুলাই সেখানে শিশুটিকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। চার দিন পর, ১৬ জুলাই, মৃত্যু হয়।
কাঁদতে কাঁদতে শিবাংশর মা বলেন, 'আমার স্বামী দেশের সুরক্ষায় সীমান্তে, আর আমাদের ছেলে চিকিৎসায় গাফিলতিতে প্রাণ হারাল। এক হাসপাতাল থেকে আরেকটায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ওকে মেরে ফেলা হল। আমি চাই, কোনও মায়ের কোল যেন এমন খালি না হয়।' ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সেনা অফিসার বাবাও। বলেন, 'জরুরি মানে কী, সেটা যেন ওঁরা বুঝতেন! আমি আমার একমাত্র ছেলেকে হারালাম। হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল, সব কোথাও প্রাণ ছিল ওর।'
ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেন, 'এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। জনস্বাস্থ্য পরিষেবা চালানো সরকারের দায়িত্ব। যদি কোনও কর্মী গাফিলতি করে থাকেন, সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তদন্ত শুরু হয়েছে। কাউকে ছাড়া হবে না।'