
জলমগ্ন দিল্লি।
শেষ আপডেট: 28 June 2024 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘ-রোদ্দুরের খেলা প্রকতির বুকে প্রায়ই দেখা যায়। তাই বলে তাপপ্রবাহ আর অতিবৃষ্টির এমন খেলাও যে সম্ভব, তা দেখা গেল রাজধানী দিল্লির বুকে। দু'দিন আগেও তাপপ্রবাহে পুড়ে যাচ্ছিল দিল্লি। আর আজ, শুক্রবার রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিতে কার্যত জলের তলায় চলে গেল গোটা শহর।
এই মাসের গোড়া থেকেই ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ গরমের মুখে পড়েছিল দিল্লি। একটানা তাপপ্রবাহ চলছিল সে শহরে, একের পর এক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। মারাও গেছেন অনেকে। রাতারাতি আবহাওয়া বদলে গেল, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমন আকাশভাঙা বৃষ্টি হয়েছে, যে এত বছরের জুন মাসের গড় বৃষ্টির হিসেবকে ছাপিয়ে গেছে। গত ১৫ বছরে পুরো জুন মাসে এত বৃষ্টি পড়েনি দিল্লিতে।
ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট বা আইএমডি বলছে, শহরের সাফদরজং অবজারভেটরি থেকে শুক্রবার সকাল ৮:৩০টায় ২২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জুন মাসে রেকর্ড করা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর আগে ১৯৩৬ সালের ২৮ জুন দিল্লিতে ২৩৫.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
এদিন দিল্লিতে মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ধসে পড়েছে বিমানবন্দরের ছাদ, মারা গেছেন একজন। ব্যাহত হয়েছে বিমান চলাচল। আন্ডারপাসে আটকে গেছে গাড়ি, উদ্ধার করতে হয়েছে যাত্রীদের। সেইসঙ্গে গোটা শহরজুড়ে জল জমে গেছে সর্বত্র। প্রবল ট্র্যাফিক জ্যাম। ফলে দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পরে বৃষ্টি আসায় তা উপভোগ করার আর সুযোগ হল না, বিশৃঙ্খলায় পরিণত হল গোটা রাজধানী।
দিল্লির জলমন্ত্রী আতীশির বাড়িও জলের তলায়। তিনি এই পরিস্থিতিতে বলেছেন, 'দিল্লিতে ২২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি মানে, সেই জল কমতে কত সময় লাগবে, তা বলা মুশকিল। দিল্লিতে যত ড্রেন আছে, তার ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। জল জমে গেছে। আমরা জরুরি মিটিং করেছি, দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।'
দিল্লিতে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বন্যা পরিস্থিতিতে। পাশাপাশি, হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে দিল্লি সরকার। 8130188222 (হোয়াটসঅ্যাপ) এবং 1800110093 (কল)।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছিল দিল্লির তাপমাত্রা। ২২ জুন পর্যন্ত একটানা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল তাপমাত্রা। বৃষ্টির অপেক্ষায় হাঁপিয়ে উঠেছিল গোটা শহর। সেই বষ্টিতেই ফের এলোমেলো হয়ে গেল সব কিছু। জলমগ্ন হয়ে গেল দিল্লি।
সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সুনীতা নারায়ণ বলেন, 'এটাই জলবায়ু পরিবর্তন। এরকম বাড়াবাড়ি আরও হবে। বৃষ্টি হওয়ার দিনের সংখ্যা কমে আসবে, গোটা মরশুমে হয়তো হাতে গোনা কয়েকটা দিন বৃষ্টি হবে। কিন্তু এত বেশি হবে, যে এরকমই বন্যা পরিস্থিতিতে পড়বে শহর।'