অভিযুক্ত চৈতন্যানন্দকে গ্রেফতার করতে দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ডে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে একাধিক পুলিশ দল।

চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস
শেষ আপডেট: 24 September 2025 22:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বঘোষিত ধর্মগুরু স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী (Chaitanyananda Saraswati) ওরফে পার্থ সারথির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি পুলিশ। যৌন হেনস্থার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁর নামে মামলা দায়ের হয়েছে, এবার তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধা দিতে জারি হল লুকআউট সার্কুলার (Lookout notice)। গত এক মাস ধরে চৈতন্যানন্দ পলাতক বলে জানা গেছে।
দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অমিত গোয়েল জানান, অভিযুক্ত চৈতন্যানন্দকে গ্রেফতার করতে দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ডে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে একাধিক পুলিশ দল।
দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের এক বেসরকারি ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন চৈতন্যানন্দ। কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, তিনি “অবৈধ, অনৈতিক ও নোংরা কাজকর্মে” লিপ্ত ছিলেন। ৪ আগস্ট কলেজ প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশ জানায়, ৩২ জন ছাত্রী তাঁদের বয়ান দিয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জন জানিয়েছেন, তাঁরা চৈতন্যানন্দের কাছ থেকে অশ্লীল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পেয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, অনভিপ্রেত শারীরিক স্পর্শ ও মানসিক চাপে বাধ্য করার মতো কাজ করেছিলেন। তিনি মেসেজ করে বলতেন, আমার ঘরে এসো, তোমাকে বিদেশে পাঠাব। ইত্যাদি।
এমনকি ছাত্রীরা জানিয়েছে, কলেজের মহিলা শিক্ষিকা ও প্রশাসনের কয়েকজনও তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যাতে গডম্যানের দাবি মেনে নিতে হয়।
পুলিশি তল্লাশিতে কলেজের বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে চৈতন্যানন্দের একটি বিলাসবহুল গাড়ি, যাতে জাল কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে আলাদা প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চৈতন্যানন্দের সঙ্গে তাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, “অভিযুক্তের অবৈধ কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। তিনি আর আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন।”
স্বঘোষিত ধর্মগুরু চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে এখন তীব্র চাঞ্চল্য। একদিকে একাধিক ছাত্রীর বয়ান, অন্যদিকে জাল নম্বরপ্লেট-কাণ্ড— সব মিলিয়ে তাঁকে গ্রেফতারের জন্য মরিয়া দিল্লি পুলিশ। লুকআউট সার্কুলার জারি হওয়ার পর বিদেশে পালানোর রাস্তা কার্যত বন্ধ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে আইনের জালে ধরা পড়েন অভিযুক্ত ‘গডম্যান’।