দিল্লি হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 29 December 2024 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক সম্পর্ক মানেই যৌন নির্যাতন নয়। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কখনও তাকে সত্যি বলে দেওয়া সম্ভব নয়। সম্প্রতি পকসো মামলায় এক ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস করে এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
বিচারপতি প্রতিভা এম সিং ও অমিত শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে পরিষ্কার জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে যৌন নির্যাতনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল ট্রায়াল কোর্ট। তবে আদালত এ ও জানিয়েছিল বেঁচে থাকা ব্যক্তি স্বেচ্ছায় যৌন নির্যাতন করেছেন, এমন অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই।
আদালত ট্রায়াল কোর্টের রায়কে ফিরিয়ে পরিষ্কার জানিয়েছে, আদালত দৃঢ়ভাবে বলেছে যে শারীরিক সম্পর্ক বা 'সম্বন্ধ' থেকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা অবশ্যই প্রমাণসাপেক্ষ। শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে তা প্রমাণ করা বা কাউকে শাস্তি দেওয়া অসম্ভব।
হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, যেহেতু নির্যাতিতার বয়স ১৮ বছরের কম তাই সে কোনওভাবেই এটা বাজি রেখে বলতে পারে না যে সেটা যৌন নির্যাতনই ছিল। তিনি ‘শারীরিক সম্পর্ক’-শব্দ ব্যবহার করে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা তিনি নিজেই জানেন না। গত ২৩ ডিসেম্বর এমন রায় দিয়েছে আদালত।
এমনকি পকসো আইনের ৩ ধারা বা ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী একটি অপরাধ প্রমাণ করতে ‘সম্বন্ধ\যোগাযোগ’ শব্দের ব্যবহার করা যাবে না। সে কারণে অভিযুক্তকে খালাস করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে এক নাবালিকার মা অভিযোগ জানান, তাঁর ১৪ বছরের মেয়েকে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বাড়ি থেকে অপহরণ করে। পরে নাবালিকাকে ফরিদপুর থেকে পাওয়া যায় এবং গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। এরপরই তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে দায়ের হয় মামলা এবং যৌন নির্যাতনের শাস্তি চাপিয়ে যাবজ্জীবনের সাজা শোনান হয় তাকে।