১৯৯০ সালে স্ত্রী-সন্তানকে অবহেলা করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় এবং ৪ বছরের জন্য বেতনে চার ধাপ কমানোর শাস্তি দেওয়া হয়।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 January 2026 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর পরিবারের স্বীকৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। তাঁর সঙ্গী ও সন্তানদের ফ্যামিলি পেনশন (Include live-in partner in family pension) ও স্বাস্থ্যপরিষেবা (CGHS) সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনটি বিবেচনা করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাঁর মাসিক পেনশন ও গ্র্যাচুইটির অর্ধেক অর্থ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও আদালত ভুল বলে মন্তব্য করেছে।
বিচারপতি নবীন চাওলা ও মধু জৈনের বেঞ্চ জানায়, ওই কর্মী কখনও তাঁর সম্পর্ক লুকাননি (live-in relationship legal rights)। বরং বরাবরই সঙ্গী ও সন্তানদের তাঁর পরিবার হিসেবেই উল্লেখ করেছিলেন। তাই তাঁর আচরণকে 'অনৈতিক' বলে চিহ্নিত করে পেনশন আটকে রাখা একেবারেই অযৌক্তিক (Delhi HC judgment)।
২০১৮ সালে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (CAT) কর্তৃক দেওয়া রায়ও আদালত বাতিল করে দেয়। CAT সেই সময়ে ২০১২ সালে অবসর নেওয়া ওই কর্মীর পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ৫০ শতাংশ অর্থ বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। হাইকোর্ট জানায়, এমন শাস্তির কোনও বৈধ কারণ নেই।
আদালত নির্দেশ দেয়-
পাশাপাশি সঙ্গী ও সন্তানদের নাম ফ্যামিলি পেনশন এবং CGHS সুবিধায় যুক্ত করার আবেদনও বিবেচনা করতে হবে (Govt employee's plea)।
পিটিশনের তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর স্ত্রী বহু বছর আগে তাঁকে ছেড়ে চলে যান এবং বিবাহবিচ্ছেদেও (Divorce) রাজি হননি। এরপর ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি অন্য এক মহিলার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন এবং সেই সম্পর্কে তাঁদের দুটি সন্তানও জন্মায়।
১৯৯০ সালে স্ত্রী-সন্তানকে অবহেলা করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় এবং ৪ বছরের জন্য বেতনে চার ধাপ কমানোর শাস্তি দেওয়া হয়। পরে ২০১১ সালে তাঁর সঙ্গী ও সন্তানদের জন্য ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট নিতে গিয়ে তিনি তথাকথিত ভুল তথ্য দিয়েছেন- এই অভিযোগে আরও একটি তদন্ত শুরু হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পেনশনের অর্ধেক কেটে দেওয়া হয়।
কিন্তু আদালত জানায়, কর্মী কখনও তাঁর স্ত্রীর দীর্ঘসময় ধরে তাঁর সঙ্গে না থাকা বা তাঁর নতুন সম্পর্ক- কোনওটাই লুকোননি। তাঁর আচরণে কোনও প্রতারণা বা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। CCS নিয়মে 'অনৈতিক কার্যকলাপ' ঘটলে তবেই পেনশন বন্ধ করা যায়, এখানে তেমন কিছুই হয়নি।
শেষ পর্যন্ত আদালত স্পষ্ট করে দেয় (Delhi HC judgment), কর্মীর ব্যক্তিগত সততার বিষয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগও ভিত্তিহীন। তিনি সবসময় সম্পর্ক নিয়ে স্বচ্ছ ছিলেন এবং পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।