দিল্লির বিখ্যাত আশ্রমের প্রধান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী পলাতক, তাঁর বিরুদ্ধে হোয়াটঅ্যাপে অশ্লীল মেসেজ পাঠানো এবং জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ খুঁজছে তাঁকে।

স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী
শেষ আপডেট: 24 September 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌন হেনস্থার অভিযোগ। পালিয়ে গেলেন বসন্ত কুঞ্জের এক বিখ্যাত আশ্রমের প্রধান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী (প্রাক্তন স্বামী পার্থসরথী)। ১৫ জনেরও বেশি মহিলা শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে শেষবার দেখা গেছে আগ্রায়।
শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন স্বামী চৈতন্যানন্দ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, যেসব শিক্ষার্থী পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট (PGDM) কোর্স করছিলেন এবং যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (EWS) স্কলারশিপে ছিলেন। তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে খারাপ কথা বলা, অশ্লীল মেসেজ পাঠানো, কুমন্তব্য করা ও কটূক্তি ছিল চৈতনানন্দের নিত্যদিনের কাজ।
পুলিশ জানিয়েছে, ৩২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন অভিযোগ করেছেন, ওই প্রধান হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন সময়ে নোংরা টেক্সট ও মেসেজ পাঠিয়েছেন। জোর করে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেছেন বলেও কেউ কেউ দাবি করেন। অভিযোগ পত্রে আরও ভংঙ্কর তথ্য রয়েছে, এই সব নোংরা কাজ করতে আশ্রমের তিন মহিলাই পড়ুয়াদের বাধ্য করতেন। চাহিদা মেটাতে বলতেন। এই তিন মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তবে, তাঁদের মুখ থেকে এখনও কিছু বের করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা এমনকি অভিযুক্তের ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ একটি ভল্ভো গাড়ি উদ্ধার করেছে, যা স্বামী চৈতন্যানন্দ ব্যবহার করতেন। গাড়িটিতে জাল এম্ব্যাসি নম্বর প্লেট (39 UN 1) ছিল।
এদিকে এসব জানতে পেরে আশ্রম কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তাঁকে পরিচালক পদ থেকে বরখাস্ত করেছে এবং তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। দক্ষিণ ভারতের বিশিষ্ট শ্রী শ্রীঙ্গেরী মঠ জানিয়েছে, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড অনৈতিক, অবৈধ এবং মঠের স্বার্থের বিপরীত।
পুলিশ এখনও অভিযুক্তকে খুঁজছে এবং তাঁকে ধরার চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, এটাই প্রথম নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ ছিল। ২০০৯ সালে অভিযোগ করেছিলেন এক মহিলা। তারপরও তাঁরে এমন পদে বসানো নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এপ্রসঙ্গে যদিও বাড়তি কোনও মন্তব্য করেনি ওই আশ্রম কর্তৃপক্ষ।