
শেষ আপডেট: 14 November 2023 08:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বাতাসের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) হাজারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল। বাতাসের এই গুণমানকে অতি বিপজ্জনকই বলা যায়। এখন দিল্লির বাতাসে শুধুই বিষ-বাষ্প। প্রতি শ্বাসেই বিষাক্ত কণা ঢুকছে দিল্লিবাসীর শরীরে।
দিল্লিতে গত কয়েক দিন ধরেই বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ধোঁয়াশায় ঢেকেছে রাজধানীর বাতাস। দৃশ্যমানতাও অনেক কমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দীপাবলির রাত নিয়ে চিন্তা ছিলই। সুপ্রিম কোর্টও তাই আগে থেকেই বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু দেখা গেল, সুপ্রিম নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই দেদার বাজি ফাটল দীপাবলির রাতে। দীপাবলির দিন বিকেল ৪টের পর থেকে দিল্লির অলিগলি থেকে বাজি ফাটানোর শব্দ কানে এসেছে। যা চলেছে মধ্যরাত পর্যন্ত। ফলে কালো ধোঁয়ার চাদরে ঢেখেছে রাজধানী। দিল্লির বাতাসের একিউআই এখনই ৯৯৯-তে পৌঁছে গেছে। কোথাও কোথাও দূষণ মাত্রা হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (সিপিসিবি) জানিয়েছে, রবিবার সকালে দিল্লিতে বাতাসের গুণমান (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই) কিছুটা ভালর দিকে ছিল। একিউআই পরিমাপ করা হয় ২১৮। কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন পরিবেশবিদরা। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই বাজি পোড়ানোর ধূম পড়ে যায়। বাজির ধোঁয়ায় ফের বিষ-বাষ্পে ঢাকতে শুরু করে দিল্লির আকাশ। রাতে দেখা যায় দিল্লির বাতাসের গুণমান ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামের আশপাশে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৯১০ যা অতি বিপজ্জনক। লাজপত নগরে রাতে একিউআই ওঠে ৯৫৯, কারোল বাগ এলাকায় ৭৭৯। আর আজ তাই হাজারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বলছেন, বাতাসের ধূলিকণার মধ্যে থাকে নাইট্রেট, কার্বন-সহ আরও নানা রকমের বিষাক্ত পদার্থ। রক্তের সঙ্গে ধমনীতে প্রবেশ করে তা রক্তচলাচলের পথে বাধা তৈরি করে। রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে তখন উচ্চরক্তচাপের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাড়ে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়েডের মতো রোগ।
দূষণের নিরিখে কলকাতা দ্বিতীয় স্থানে, দিল্লির পরেই। শুধু ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণাই (পিএম ২.৫) নয়, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। শহরের বাতাসে সূক্ষাতিসূক্ষ অ্যারোসল কণার মাত্রা সাঙ্ঘাতিক বেশি। এই দূষণ-কণাগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। পরে বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে বিষ-বাস্প তৈরি করছে।