রাজ্যের সর্বত্র জারি হয়েছে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী সোমবার, ৭ জুলাই পর্যন্ত হিমাচলের সব জেলাতেই প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 July 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে আরও পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh)। রাজ্যজুড়ে ধসে নেমেছে একাধিক পাহাড়ি গ্রামে, তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি (Flash Flood)। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃতের সংখ্যা (Death Toll) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। নিখোঁজ বহু।
হিমাচলের বেশিরভাগ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মান্ডি (Mandi)। সেখানে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ অন্তত ৪০ জন। মান্ডি ছাড়া কাংড়ায় ১৩ জন, চম্বায় ৬ জন এবং শিমলায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। আরও মৃত্যু হয়েছে বিলাসপুর, হামিরপুর, কিন্নর, কুল্লু, লাহৌল-স্পিতি, সিরমোর, সোলান ও উনা জেলাতেও।
এও জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন। ধ্বংস হয়েছে শতাধিক বাড়ি। জলবাহিত হয়েছে অন্তত ১৪টি সেতু। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। কারণ ৫০০-র বেশি রাস্তা বন্ধ। এখনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। রাজ্যের সর্বত্র জারি হয়েছে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী সোমবার, ৭ জুলাই পর্যন্ত হিমাচলের সব জেলাতেই প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানিয়েছেন, একাধিক রাজ্য ভারী বৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত। গুজরাত, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে এনডিআরএফ দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
In the wake of heavy rainfall in different parts of the nation, spoke with the chief ministers of Gujarat, Himachal Pradesh, Rajasthan, Uttarakhand, and Chhattisgarh. Adequate numbers of NDRF teams have been deployed in the states for the people in need, and more reinforcements…
— Amit Shah (@AmitShah) July 4, 2025
হিমাচল সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। তবে বাস্তবে এই ক্ষয়ক্ষতি আরও অনেক বেশি হতে পারে। তবে আপাতত সব নজর উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনের দিকে। প্রশাসনের তরফে জোর কদমে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF), রাজ্য পুলিশ এবং সেনার যৌথ টিম বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে কাজ করছে।
প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কার্যত বিপর্যস্ত হয় এই পাহাড়ি রাজ্য। তবে এই বছরের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।