.webp)
শেষ আপডেট: 19 October 2023 23:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে। আর এক ব্যবসায়ী বন্ধু দাবি করলেন, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁকে ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে অন্যায্য সুযোগ নিয়েছেন। মহুয়ার আবদার ও বায়নাক্কা মেটাতে গিয়ে তাঁকে অতি দামি উপহার, বিদেশে ছুটি কাটানোর খরচ, দিল্লির বাংলো মেরামত করে দেওয়া থেকে শুরু করে কত যে দিতে হয়েছে ইয়ত্তা নেই। মহুয়ার এই ব্যবসায়ী বন্ধু হলেন মুম্বই ও দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী তথা শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানি।
মহুয়ার বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে যে অভিযোগ করেছেন, তা যে আঠারো আনা সত্য তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন দর্শন। একটা হলফনামায় দর্শন বলেছেন, লোকসভার ওয়েবসাইটের লগ-ইন পাসওয়ার্ড মহুয়া তাঁর সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। মহুয়ার হয়ে লোকসভার ওয়েবসাইটে তিনিই গৌতম আদানি ও আদানি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন পোস্ট করেছেন।
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেছিলেন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানির ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র লোকসভায় আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশ্ন করেছেন। অর্থাৎ টাকা ও উপহারের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করেছেন মহুয়া। তাই তাঁর লোকসভার সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন নিশিকান্ত। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে লোকসভার এথিক্স কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। ২৬ অক্টোবর কমিটি তলব করেছে নিশিকান্ত ও মহুয়ার প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড জয় অনন্ত দেহাদরাইকে।
সন্দেহ নেই মহাপঞ্চমীর সন্ধেয় দর্শন হীরানন্দানির এই হলফনামা মহুয়াকে বড় চাপে ফেলে দিল। মহুয়া অবশ্য এ নিয়ে এখনও কোনও টুইট করেননি বা প্রতিক্রিয়া দেননি। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, দুটি ভয়ঙ্কর অভিযোগ মহুয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে। এক, অর্থ ও উপহারের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা। এবং দুই, লোকসভার লগ ইন ক্রেডেনশিয়াল কোনও ব্যবসায়ীকে দেওয়া এবং তাঁর মাধ্যমে প্রশ্ন পোস্ট করা। এটা সংসদের স্বাধিকার ভঙ্গের সামিল। শুধু এই কারণেই মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের জন্য বড় দাবি উঠে যেতে পারে।
দর্শন অবশ্য স্বীকার করেছেন যে আদানি শিল্প গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংসদে কী কী প্রশ্ন তোলা উচিত সে ব্যাপারে তিনি মহুয়াকে সাহায্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে এও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশকে যোগ্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গৌতম আদানির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও রেষারেষি নেই।
হীরানন্দানির দাবি, আদানি শিল্প গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মহুয়াকে ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করার আরও লোক ছিল। তাঁদের মধ্যে এক জন প্রাক্তন সাংবাদিক। সেই সঙ্গে রয়েছে এক প্রভাবশালী দম্পতি।
দর্শন জানিয়েছেন, মহুয়ার সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়েছিল ২০১৭ সালে। সে সময়ে বেঙ্গল বিজনেস সামিটে আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি কলকাতায় এসেছিলেন। পরবর্তীকালে মহুয়ার সঙ্গে তাঁর বন্ধু সম্পর্ক গাঢ় হয়। তাঁর মনে হতে থাকে যে মহুয়ার মাধ্যমে তিনি বিরোধী দলশাসিত রাজ্যগুলিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। কারণ শ্রী গান্ধী, শশী তারুর, পিনাকি মিশ্রর সঙ্গে মহুয়ার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। দর্শনের দাবি, মহুয়ার সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তাঁকে অনেক বায়না ও চাহিদা মেটাতে হয়েছে। লাক্সারি গিফট, বিদেশ ও দেশে ঘোরার ব্যবস্থা করে দেওয়া, লজিস্টিকাল হেল্প ইত্যাদি বহু কিছু দিতে হয়েছে। অনেক সময়েই তাঁর মনে হয়েছে, মহুয়া অনায্য সুযোগ নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মহুয়ার সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য এসব দিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ ব্যাপারে তৃণমূল কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, মহুয়া মৈত্র দলের সাংসদ। এসব প্রশ্নের জবাব উনিই দিতে পারবেন।