এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় দোকানদাররা। তাঁরা বলেন, নিজের দায়িত্ব এড়াতে এমন কাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয়।

মীরাটে চাঞ্চল্য
শেষ আপডেট: 8 December 2025 07:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোকানের সামনে পড়ে রয়েছে এক যুবকের মৃতদেহ! শুক্রবার সকালে দোকান খুলতে এসে এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh Case) মীরটের লোহিয়ানগর এলাকার ব্যবসায়ীরা। কে বা কারা মৃতদেহ ফেলে রেখে পালাল, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরও চাঞ্চল্য ছড়াল। সিসিটিভি ফুটেজে (Meerut CCTV case) দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে কয়েকজন পুলিশকর্মী দেহটি দোকানের সামনে ফেলে রেখে গেছে (Cops dump body)।
ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ ও নেটিজেনরা। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ মানুষের প্রতি স্থানীয় পুলিশের উদাসীনতা আবারও সামনে এল।
Meerut: The UP police found a dead body. It was unidentified. The police then placed the body in an e-rickshaw and dumped it in another police station area. SSP Dr Vipin Tada suspended three cops. That's all that happened. pic.twitter.com/fQTzKFStQy
— Krishna Chaudhary (@KrishnaTOI) December 5, 2025
বিতর্ক ও জনরোষ বাড়তে থাকায় মীরাটের এসএসপি ড. বিবেক তাডা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি এল-ব্লকের আউটপোস্ট ইনচার্জ জিতেন্দ্র কুমার ও কনস্টেবল রাজেশকে সাসপেন্ড করেন। একই সঙ্গে হোমগার্ড রোহতাশের চাকরি বাতিল করা হয়। পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসপি সিটি আয়ুশ বিক্রম সিংকে।
এসএসপি তাডা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত যুবকের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।”
অভিযোগ অনুযায়ী, নওচানদি থানার এলাকায় কর্মরত কিছু পুলিশ কর্মী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক অজ্ঞাত দেহ খুঁজে পান। তা এল-ব্লক আউটপোস্ট এলাকাতেই ছিল। কিন্তু ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ঝামেলা এড়াতে তারা নাকি দেহটি নিজেদের এলাকার বদলে অন্য থানার এলাকায় ফেলে দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে চেয়েছিলেন (Cops dump body)। সেই কারণেই রাত প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে লোহিয়ানগর থানার কাজিপুর এলাকার একটি স্টেশনারি দোকানের সামনে লুকিয়ে এসে দেহটি রেখে চলে যান।
দোকানের মালিক রণিত বাইনসলা জানান, “সকালে দোকান খুলতে গিয়ে দেখি, শাটারের সামনে একটি দেহ পড়ে আছে। আমরা পুলিশকে খবর দিই। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়। তখনই দেখা যায়, পুলিশ ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন লোক রাতেই দেহটা এনে রেখে গেছে।”
এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় দোকানদাররা। তাঁরা বলেন, নিজের দায়িত্ব এড়াতে এমন কাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুরো ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ। মৃত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেই তদন্ত আরও এগোবে বলে মনে করছে প্রশাসন। আপাতত এই অমানবিক আচরণে উত্তাল মীরাট।