
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 February 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী দলকে সংবিধানের কণ্ঠরোধ করা নিয়ে জরুরি অবস্থার দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভার পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের জবাব দিতে গিয়ে মোদী আগাপাশতলা মৌলিক অধিকার খর্বকারী ইন্দিরা গান্ধী জমানার জরুরি অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। অতীতের দিনগুলির কথা তুলে ধরতে গিয়ে মোদী চিরসবুজ অভিনেতা দেব আনন্দ (প্রয়াত) এবং প্রখ্যাত গায়ক-নায়ক কিশোর কুমারের (প্রয়াত) নামোল্লেখ করেন। সেই সময় কংগ্রেসের পক্ষ না নেওয়ায় এবং কংগ্রেসের নির্দেশ না মানায় এই দুই ভুবনবিখ্যাত শিল্পীকে কীভাবে মাশুল গুনতে হয়েছিল, তার দৃষ্টান্ত টানেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী এদিন বলেন, জরুরি অবস্থার সাক্ষী এই দেশ। কংগ্রেস কীভাবে ক্ষমতার লালসায় গদিতে টিকে থাকার জন্য সংবিধানের নীতি-আদর্শকে ধ্বংস করেছিল তা সকলেই জানেন। জরুরি অবস্থার সময় তৎকালের বিখ্যাত নায়ক দেব আনন্দজিকে কংগ্রেস জরুরি অবস্থা সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু, দেব আনন্দজি ওদের সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। আর এই কারণেই দেব আনন্দজির সমস্ত ছবি দূরদর্শনে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
মোদীর শ্লেষ, আর এই দলই এখন সংবিধান রক্ষার কথা বলে। বছরের পর বছর ধরে এরাই সংবিধানকে পকেটে পুরে রেখে দিয়েছিল। কিশোর কুমারজি কংগ্রেসের হয়ে গান গাইতে অস্বীকার করেছিলেন। তারপরই তাঁকে অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। তাঁর গান আর শোনানো হতো না রেডিওতে। আমি জরুরি অবস্থার সেই দিনগুলির কথা ভুলতে পারব না। আমার ধারণা, সেইসব ছবি এখনও মিলবে।
শুধু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী সঞ্জয় গান্ধীই নন, মোদী প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জমানার কথাও টেনে আনেন। তিনি বলেন, মুম্বইয়ে একটি শ্রমিক ধর্মঘট হয়েছিল। সেই ধর্মঘটে বিখ্যাত কবি মজরুহ্ সুলতানপুরী একটি কবিতা পাঠ করেছিলেন। তারপর তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। বিখ্যাত অভিনেতা বলরাজ সাহনিকেও ওরা জেলে পাঠিয়েছিল। কারণ তিনি সেই প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। লতা মঙ্গেশকরের ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর একটি কবিতা লিখেছিলেন বীর সাভারকরকে নিয়ে এবং আকাশবাণীতে গাইতে চেয়েছিলেন। তাঁকেও সারা জীবনের মতো আকাশবাণী থেকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল কংগ্রেস সরকার।