
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 1 January 2025 09:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে ‘ভারতরত্ন’ ঘোষণার দাবি ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক দানা বাঁধছে। চাপও তৈরি হচ্ছে দুই দলের মধ্যে। কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানা সরকার মনমোহনকে ভারতরত্ন ঘোষণার দাবি জানিয়ে রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। হায়দরাবাদের কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর স্ট্যাচু বসানো হবে বলেও রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে রাজ্যের দুই প্রধান বিরোধী দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি এবং বিজেপি।
তেলেঙ্গানা সরকারের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েও বিজেপি পাল্টা কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি, কংগ্রেসের তরফে মনমোহনকে ভারতরত্ন ঘোষণার দাবি তোলার আগে সনিয়া গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে। স্বীকার করতে হবে দেশের প্রথম শিখ প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে ভারতরত্ন ঘোষণার বিষয়ে উদ্যোগ না নিয়ে ভুল করেছেন। বিজেপির দাবি, ২০১৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে ভারতরত্ন ঘোষণা করা হোক। কিন্তু সরকারের প্রাণভোমরা সনিয়া গান্ধী এই বিষয়ে রা কাড়েননি তখন। কংগ্রেস এই অভিযোগেরও জবাব দেয়নি। বিজেপি প্রচার করছে, কংগ্রেস আসলে মনমোহনকে শিখ ভোট পাওয়ার উদ্দেশে ব্যবহার করেছে। সম্মান জানায়নি।
মনমোহনের অন্তেষ্টি শেষ হওয়ার আগেই দিল্লির আম আদমি পার্টি বিধানসভায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে ভারতরত্ন ঘোষণার দাবি জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করায়। তারপর থেকে এই ইস্যুতে চর্চা অনেক দূর গড়িয়েছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভায় দলের উপনেতা প্রমোদ তিওয়ারি তেলেঙ্গানা সরকারের প্রস্তাব সমর্থন করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে মরণোত্তর ভারতরত্ন ঘোষণা করা হোক। তাঁর বক্তব্য, মনমোহনের কৃতিত্বকে মর্যাদা দিলে কেন্দ্রীয় সরকারেরই সম্মান বাড়বে। যদিও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি এখনও এই ব্যাপারে মতামত দেয়নি।
দলীয় সূত্রের খবর, কর্নাটকে ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত বৈঠক চলাকালেই মনমোহনের মৃত্যু সংবাদ আসে। ফের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। তবে মোদী সরকারের কাছে মনমোহনকে ভারতরত্ন ঘোষণার দাবি জানানো হবে কি না তা নিয়ে অনেকেই নিশ্চিত নন। রাজনৈতিক কারণেই সেই পথ এড়িয়ে চলতে পারে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে ব্যক্তিগতভাবে কংগ্রেস নেতাদের এই দাবি তুললে দলের আপত্তি থাকবে না।
কী করবে কেন্দ্রীয় সরকার? কেন্দ্র কি আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে মনমোহন সিংহকে ভারতরত্ন ঘোষণা করবে? কেন্দ্রের একাধিক সূত্র এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। দেশের প্রথম শিখ প্রধানমন্ত্রীকে ভারতরত্ন ঘোষণার কৃতিত্ব নিতে পারে মোদী সরকার। পাঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষক আন্দোলন ঘিরে কেন্দ্র চাপে আছে। মাথা তুলছে খলিস্তান আন্দোলন। এই সময় মনমোহনকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান চলতি পরিস্থিতির জন্য অনুকূল হতে পারে।
তাছাড়া ব্যক্তি মনমোহনকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে কোনও বিতর্ক, আপত্তি নেই। অন্যদিকে, ভিন্ন দলের বহু নেতাকেই মোদী সরকার সম্মানিত করেছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁদের অন্যতম। মোদী সরকারই তাঁকে জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ অসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘ভারতরত্ন’ ঘোষণা করে।
অসমের প্রয়াত কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ, উত্তর প্রদেশের মুলায়ম সিং যাদবকে মরণোত্তর পদ্মভূষণ উপাধি দিয়েছে মোদী সরকারই। ২০২৪-এ বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কর্পুরী ঠাকুরকে তাঁর জন্মশতবর্ষে ভারতরত্ন ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার।
কর্পুরির ক্ষেত্রে অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক শিষ্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রবল চাপ তৈরি করেছিলেন। গগৈ এবং মুলায়মের ক্ষেত্রে তা ছিল না। বরং উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে মুলায়ম ছিলেন বিজেপির অন্যতম প্রতিপক্ষ। ২০২২-এ মুলায়মের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেও পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করতে চেয়েছিল। তিনি রাজি হননি।