সিভিল লাইনস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 2 January 2026 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাল হওয়া ‘স্কুলশিক্ষকদের দিয়ে কুকুর গোনা’ (Teachers Counting Dogs) সংক্রান্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করল দিল্লি শিক্ষা দফতর (Delhi Education Department)। এই ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হল দিল্লি ডিরেক্টরেট অফ এডুকেশন। সিভিল লাইনস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবি অনুযায়ী সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নাকি রাস্তার কুকুর গোনার কাজ দেওয়া হয়েছিল— এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষা দফতরের ডিরেক্টর বেদিথা রেড্ডি স্পষ্ট করে বলেন, “এ ধরনের কোনও নির্দেশ বা সার্কুলার কখনও জারি করা হয়নি। এটা দফতরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সুপরিকল্পিত অপপ্রচার। রাজনৈতিক সমালোচনার নামে এ ধরনের মিথ্যাচার বরদাস্ত করা হবে না।”
দফতরের দাবি, এই ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখে পুলিশে অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কী থেকে শুরু বিতর্ক?
গত কয়েক দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট ও ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয় সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে স্কুল চত্বরে বা আশপাশে রাস্তার কুকুর গণনার কাজ করানো হচ্ছে। গত ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষা দফতর আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি খারিজ করলেও, ভুয়ো প্রচার থামেনি বলেই অভিযোগ।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা?
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিভ্রান্তির মূল কারণ সম্ভবত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর জারি হওয়া একটি সার্কুলার। ওই নির্দেশটি সুপ্রিম কোর্টের একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার প্রেক্ষিতে জারি হয়েছিল, যেখানে স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও রাস্তার কুকুর সংক্রান্ত বিষয় উঠে আসে।
তবে দফতর স্পষ্ট করেছে, ওই সার্কুলারে শিক্ষকদের কোনও ভূমিকার কথা নেই। শুধুমাত্র নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে স্কুল চত্বরে রাস্তার কুকুর ঢুকতে না পারে, সে জন্য প্রবেশপথে নজরদারি বাড়াতে। কোনও ‘কুকুর গণনা’ বা শিক্ষকদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানোর কথা কোথাও উল্লেখ নেই।
এক কর্তা বলেন, “শিক্ষকদের মর্যাদা ও তাঁদের শিক্ষাদানের ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
ভুয়ো ভিডিও ও ছদ্মবেশের অভিযোগ দফতরের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের শিক্ষক বলে পরিচয় দিয়ে রিল বানিয়ে কুকুর গোনার নাটক করছেন। শিক্ষা দফতরের মতে, এটি গুরুতর অপরাধ। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের তালিকা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশে জমা দেওয়া অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজুর আবেদন করা হয়েছে— যার মধ্যে মানহানি, ভুয়ো পরিচয়ে কাজ করা এবং বিভ্রান্তিকর ডিজিটাল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এখন এই অপপ্রচারের উৎস খতিয়ে দেখছে।