ব়্যাবিসের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও কীভাবে কুকুরের কামড়ে মৃত্যু সম্ভব? ঠাণের নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
.jpeg.webp)
কুকুরের কামড়
শেষ আপডেট: 25 December 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলতে খেলতেই কুকুরের কামড়। তার পর সময়মতো চিকিৎসা, একাধিক ডোজ ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়েছিল। তবু শেষরক্ষা হল না। মহারাষ্ট্রের ঠাণে (Thane) থেকে আসা এই ঘটনাই ফের নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—র্যাবিস (Rabies) কি শুধুই ভ্যাকসিনে আটকানো যায়? নাকি সামান্য গাফিলতিতেই ঢুকে পড়ে মৃত্যুফাঁদ?
মৃত শিশুটির নাম নিশা শিন্ডে (Nisha Shinde)। বয়স মাত্র ছ’বছর। ঠাণের দিবা (Diva) এলাকার বাসিন্দা। গত ১৭ নভেম্বর বাড়ির বাইরে খেলছিল সে। সেই সময় একটি পথকুকুর (Street Dog) আচমকা কামড় বসায় তার কাঁধ ও গালে। পরিবারের তরফে জানানো হয়, ঘটনার পরই শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্ষত পরিষ্কার করা হয়, দেওয়া হয় অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন (Anti-Rabies Vaccine)। মোট চারটি ডোজই সে পেয়েছিল। চিকিৎসার মধ্যেই সে নিজের জন্মদিনও পালন করে। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল।
কিন্তু আচমকাই ছবিটা বদলে যায়। শেষ ডোজ নেওয়ার একদিন পর, ১৬ ডিসেম্বর নিশার জ্বর আসে। সঙ্গে শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা। পরিবারের লোকজন লক্ষ্য করেন, আচরণেও অস্বাভাবিক পরিবর্তন। কখনও বিছানায় মাথা ঠুকছে, কখনও আশপাশে থাকা মানুষকে আঁচড়াচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
এই মৃত্যু বিরল হলেও একেবারে অসম্ভব নয়, বলছেন চিকিৎসকেরা। প্রশ্ন উঠছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও কীভাবে র্যাবিসে মৃত্যু সম্ভব?
চিকিৎসক মহলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
প্রথমত, দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়া। কুকুরে কামড়ানোর পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান জলে অন্তত ১৫ মিনিট ধোয়া। তার পরই শুরু করতে হয় পোস্ট এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (Post-Exposure Prophylaxis)। সামান্য দেরিতেই ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রে ঢুকে পড়তে পারে। একবার সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে (Central Nervous System) পৌঁছে গেলে, ভ্যাকসিন আর কাজ করে না।
দ্বিতীয়ত, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না। কোনও জটিল শারীরিক সমস্যা বা ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকলে এই ঝুঁকি বাড়ে।
তৃতীয়ত, কামড়ের জায়গা। মুখ, গলা বা হাতের মতো স্নায়ুসমৃদ্ধ অংশে কামড় হলে ভাইরাস খুব দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। নিশার ক্ষেত্রে কামড় লেগেছিল গাল ও কাঁধে—যা উচ্চঝুঁকির এলাকা বলেই ধরা হয়।
চতুর্থত, র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Rabies Immunoglobulin বা RIG)। উচ্চঝুঁকির কামড়ের ক্ষেত্রে শুধু ভ্যাকসিন নয়, ক্ষতস্ঠাণে RIG দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি তাৎক্ষণিক অ্যান্টিবডি দিয়ে ভাইরাসকে আটকে রাখে, যতক্ষণ না ভ্যাকসিন কাজ শুরু করে। এই ধাপ বাদ পড়লে বিপদ বাড়ে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, র্যাবিস ভাইরাস (Rabies Virus) একবার উপসর্গ দেখা দিলে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর দিকেই যায়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, কামড়ের জায়গায় ব্যথা দেখা দেয়। পরে শুরু হয় স্নায়বিক সমস্যা—উদ্বেগ, বিভ্রান্তি, জল দেখলে ভয় (Hydrophobia), হাওয়ার স্পর্শে অস্বস্তি (Aerophobia), শেষে পক্ষাঘাত।
এই ঘটনাই ফের মনে করিয়ে দিল, কুকুরে কামড় মানেই হালকা বিষয় নয়। ভ্যাকসিন কার্যকর, কিন্তু সময়, পদ্ধতি আর সম্পূর্ণ চিকিৎসা—এই তিনের একটুও এদিক-ওদিক হলে মাশুল দিতে হতে পারে প্রাণ দিয়ে।