কংগ্রেসের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার নামে ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

রাহুল গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 27 October 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং কেন্দ্রের মধ্যে আঁতাত হয়েছে এবং 'ভোট চুরি'র খেলা চলছে - এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল কংগ্রেস (Congress)। সোমবার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার নামে ১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সহ ১২ রাজ্যে এসআইআর (SIR) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঠিক তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসের অভিযোগ, বিহারে এই কর্মসূচির সময় ৬৯ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। এখন সেই একই প্রক্রিয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা কারচুপি-তে পরিণত হতে চলেছে। দলের সাফ বক্তব্য - নির্বাচন কমিশন (ECI) এখন ১২ রাজ্যে ‘ভোট চুরি’র খেলা খেলতে চলেছে। আবারও কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ যাবে। এটি প্রকাশ্য ভোট ডাকাতি যা মোদী সরকার (Narendra Modi Govt) ও নির্বাচন কমিশন মিলে করছে।
এসআইআর বিষয়টি যখন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিচারাধীন, তখন তড়িঘড়ি করে দেশব্যাপী এই উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্নও তুলেছে কংগ্রেস। তাঁদের আরও সংযোজন, বিহারে 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের' প্রসঙ্গ বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করলেও, কমিশন এ বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (AICC) প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান পবন খেরা বলেন, বিহারে যা ঘটেছে, তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। কমিশন ১২ রাজ্যে নতুন SIR ঘোষণা করেছে, অথচ বিহারে কী ঘটেছে, তার উত্তর এখনও মেলেনি। বিষয়টি এত গুরুতর যে, সুপ্রিম কোর্টকেই হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
খেরার অভিযোগ, বিহারের প্রক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয়েরই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন আছে। তিনি এও স্মরণ করিয়ে দেন, রাহুল গান্ধী আগেও কর্ণাটকের আলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন, যার তদন্তে 'কেন্দ্রীয়ভাবে নাম বাদ দেওয়ার প্রমাণ' পাওয়া গেছিল। এই প্রেক্ষিতে ১২ রাজ্যে একই পদক্ষেপ নেওয়া একেবারেই সন্দেহজনক।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, SIR তাদের নিয়মিত ভোটার তালিকা সংশোধন করার প্রক্রিয়ার অংশ এবং বিহারে এই পর্যায়ে কোনও আনুষ্ঠানিক আপিল বা অভিযোগ জমা পড়েনি।
সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমার জানান, মঙ্গলবার থেকেই সারা দেশে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ। এই সময়ের মধ্যেই নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নাম, ঠিকানা, বয়স, লিঙ্গ ইত্যাদি তথ্যের সংশোধন করা যাবে।
কমিশন জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হয়ে চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ জানানো যাবে। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এই সময়ে ভোটাররা ফর্ম ৬, ৭, ৮ ও ৮এ পূরণ করে নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। শহরের ক্ষেত্রে আবেদন অনলাইনেও করা যাবে। বাকিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় বুথ অফিসার (BLO)-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।